০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনাতলায় জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স ৩০ বছর বেশিঃ পাচ্ছেন বয়স্কভাতা

  • Reporter Name
  • ০২:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৩
  • ১৪৬

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের জন্ম দেখানো হয়েছে ১৯৫৭ সালে আর মেয়ের জন্ম দেখানো হয়েছে ১৯২৭ সাল। অর্থাৎ মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স ৩০ বছর বেশি। আর ওই জাতীয় পরিচয় পত্রের বয়স দিয়ে প্রায় এশযুগ ধরে বয়স্ক ভাতা তুলছেন মেয়ে আমেনা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের মধ্য দিঘলকান্দী গ্রামে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে জানাগেছে, উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের মধ্য দিঘলকান্দী গ্রামের মৃত সাখাওয়াত হোসেন ব্যাপারীর স্ত্রী রাহেলা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ২১ অক্টোবর ১৯৫৭ সাল। এতে তার বয়স হচ্ছে ৬৬ বছর। এদিকে মৃত সাখাওয়াত হোসেন ব্যাপারী ও রাহেলা বেগমের মেয়ে আমেনা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১ জানুয়ারী ১৯২৭ সাল। এতে তার বয়স প্রায় ৯৬ বছর। এতে মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স প্রায় ৩০ বছর বেশি। ওই জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স দেখিয়ে আমেনা বেগম প্রায় এক যুগ ধরে বয়স্কভাতা পান।
বয়স্কভাতা প্রাপ্ত আমেনা বেগম ভাতা পাওয়ার কথা শিকার করলেও স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা পান বলে জানান। বয়স্ক ভাতা ভোগীদের তালিকায় তার নাম কেন জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল হাসান বলেন, ওই মেয়ের বয়স ৪০ বছরের বেশি হবেনা। দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েটি ভাতা পান। আমি জানতাম সে স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা পায় এবং তার মা বিধবা ভাতা পান।
জোড়গাছা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্রে তার বয়স হয়েছে বলেই ভাতা পায়। বয়স ঠিক আছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মোঃ নাইম হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে কারো বয়স বেশি হলে সে বয়স্কভাতা পাবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিষয় উপজেলা নির্বাচন অফিস বলতে পারবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর সময় টাইপিং মিসটেক হতে পারে। তাছাড়া এমনটি হওয়ার কথা নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানানেই। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সোনাতলায় জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স ৩০ বছর বেশিঃ পাচ্ছেন বয়স্কভাতা

০২:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৩

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের জন্ম দেখানো হয়েছে ১৯৫৭ সালে আর মেয়ের জন্ম দেখানো হয়েছে ১৯২৭ সাল। অর্থাৎ মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স ৩০ বছর বেশি। আর ওই জাতীয় পরিচয় পত্রের বয়স দিয়ে প্রায় এশযুগ ধরে বয়স্ক ভাতা তুলছেন মেয়ে আমেনা বেগম। ঘটনাটি ঘটেছে সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের মধ্য দিঘলকান্দী গ্রামে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে জানাগেছে, উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের মধ্য দিঘলকান্দী গ্রামের মৃত সাখাওয়াত হোসেন ব্যাপারীর স্ত্রী রাহেলা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ২১ অক্টোবর ১৯৫৭ সাল। এতে তার বয়স হচ্ছে ৬৬ বছর। এদিকে মৃত সাখাওয়াত হোসেন ব্যাপারী ও রাহেলা বেগমের মেয়ে আমেনা বেগম। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১ জানুয়ারী ১৯২৭ সাল। এতে তার বয়স প্রায় ৯৬ বছর। এতে মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স প্রায় ৩০ বছর বেশি। ওই জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স দেখিয়ে আমেনা বেগম প্রায় এক যুগ ধরে বয়স্কভাতা পান।
বয়স্কভাতা প্রাপ্ত আমেনা বেগম ভাতা পাওয়ার কথা শিকার করলেও স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা পান বলে জানান। বয়স্ক ভাতা ভোগীদের তালিকায় তার নাম কেন জানতে চাইলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিদুল হাসান বলেন, ওই মেয়ের বয়স ৪০ বছরের বেশি হবেনা। দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েটি ভাতা পান। আমি জানতাম সে স্বামী পরিত্যাক্তা ভাতা পায় এবং তার মা বিধবা ভাতা পান।
জোড়গাছা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন, জাতীয় পরিচয় পত্রে তার বয়স হয়েছে বলেই ভাতা পায়। বয়স ঠিক আছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের।
উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মোঃ নাইম হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে কারো বয়স বেশি হলে সে বয়স্কভাতা পাবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিষয় উপজেলা নির্বাচন অফিস বলতে পারবে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরীর সময় টাইপিং মিসটেক হতে পারে। তাছাড়া এমনটি হওয়ার কথা নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদা পারভীন বলেন, বিষয়টি আমার জানানেই। আপনার মাধ্যমেই জানলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।