০১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দি পৌর বাজারে প্রধান সড়কে অবৈধভাবে ভাবে মাংস বিক্রয়ের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • ০৩:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪
  • ২২৫

মিলন, সারিয়াকান্দি প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর বাজারে সরকারি ভাবে মাংস বিক্রয়ের নির্ধারিত স্থান থাকার পরেও ফার্নিচার সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অবৈধভাবে প্রধান সড়কের ওপরে চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রয় করছেন কয়েকজন কসাই। এর প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ীগণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাঝে মধ্যে উল্লিখিত কয়েকজন কসাই পৌর হাটের দিন উচ্চ-স্বরে মাইক বাজিয়ে মাংস বিক্রয় করে আসছেন। এছাড়াও মাংসের সাথে বিভিন্ন আবর্জনা থাকায় অতিরিক্ত মশা মাছির আবির্ভাব ঘটছে। যার ফলে পরিবেশ নোংরা ও দূষিত হচ্ছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা।

এ ব্যাপারে ফার্নিচার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ফার্নিচারের ব্যবসা করে আসছি। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে কেউ কোনো দিন মাংস বিক্রয়ের দোকান দেয়নি। হঠাৎ কসাই দুলাল দোকান ভাড়া নিয়ে সরকারি আইন না মেনে পেশী শক্তি ব্যবহার করে অবাধে মাংস বিক্রয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানালে নানান কথা শুনিয়ে দেয় কসাই দুলাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, কসাইরা গ্রাম- গঞ্জে থেকে অসুস্থ গরু সংগ্রহ করে সেই গরুর মাংস বিক্রয় করছেন অবাধে।

যেহেতু প্রাণী সম্পদের দায়িত্বরত পশু চিকিৎসক দ্বারা অনেক সময় পরীক্ষা না করেই খুব ভোরে অর্থাৎ সকাল হওয়ার পূর্বে মানুষের আনাগোনা না হতেই গরু জবাই করে বিভিন্ন জায়গায় মাংস স্থানান্তর করে কসাইরা। এতে বুঝার উপায় থাকে না কোন গরুটি ভালো বা কোনটি অসুস্থ। আমরা কি খাচ্ছি তা নিজেরাও জানি না। পৌরসভার দায়িত্বরত পশু চিকিৎসক অর্থের বিনিময়ে রোগ আক্রান্ত গরু জবাই করার অনুমতি দেয় বলেও তারা জানান।

অনেক সময় ক্রেতাদের সাথে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায় কসাইদের। তারা আরও জানান, কিছু গরু অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এমন অবস্থায় তা জবাই করে মাংস বিক্রয় করা হয়। যদি পশু জবাইয়ের আইন মানতে বাধ্য করা যেতো, তাহলে হয়তো আমরা নিরাপদে গরুর মাংস ক্রয় করে খেতে পারতাম। বিষয়টি অতীত গুরুত্বের সহিত বিবেচনা পূর্বক খতিয়ে দেখবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: শাহ আলম জানান, পৌর বাজারের প্রধান সড়কের উপর চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রয়ের অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো: তৌহিদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দি পৌর বাজারে প্রধান সড়কে অবৈধভাবে ভাবে মাংস বিক্রয়ের অভিযোগ

০৩:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৪

মিলন, সারিয়াকান্দি প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর বাজারে সরকারি ভাবে মাংস বিক্রয়ের নির্ধারিত স্থান থাকার পরেও ফার্নিচার সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝে অবৈধভাবে প্রধান সড়কের ওপরে চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রয় করছেন কয়েকজন কসাই। এর প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যবসায়ীগণ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাঝে মধ্যে উল্লিখিত কয়েকজন কসাই পৌর হাটের দিন উচ্চ-স্বরে মাইক বাজিয়ে মাংস বিক্রয় করে আসছেন। এছাড়াও মাংসের সাথে বিভিন্ন আবর্জনা থাকায় অতিরিক্ত মশা মাছির আবির্ভাব ঘটছে। যার ফলে পরিবেশ নোংরা ও দূষিত হচ্ছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তারা।

এ ব্যাপারে ফার্নিচার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ঝন্টু জানান, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ ফার্নিচারের ব্যবসা করে আসছি। আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে কেউ কোনো দিন মাংস বিক্রয়ের দোকান দেয়নি। হঠাৎ কসাই দুলাল দোকান ভাড়া নিয়ে সরকারি আইন না মেনে পেশী শক্তি ব্যবহার করে অবাধে মাংস বিক্রয় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিবাদ জানালে নানান কথা শুনিয়ে দেয় কসাই দুলাল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান, কসাইরা গ্রাম- গঞ্জে থেকে অসুস্থ গরু সংগ্রহ করে সেই গরুর মাংস বিক্রয় করছেন অবাধে।

যেহেতু প্রাণী সম্পদের দায়িত্বরত পশু চিকিৎসক দ্বারা অনেক সময় পরীক্ষা না করেই খুব ভোরে অর্থাৎ সকাল হওয়ার পূর্বে মানুষের আনাগোনা না হতেই গরু জবাই করে বিভিন্ন জায়গায় মাংস স্থানান্তর করে কসাইরা। এতে বুঝার উপায় থাকে না কোন গরুটি ভালো বা কোনটি অসুস্থ। আমরা কি খাচ্ছি তা নিজেরাও জানি না। পৌরসভার দায়িত্বরত পশু চিকিৎসক অর্থের বিনিময়ে রোগ আক্রান্ত গরু জবাই করার অনুমতি দেয় বলেও তারা জানান।

অনেক সময় ক্রেতাদের সাথে খারাপ আচরণ করতে দেখা যায় কসাইদের। তারা আরও জানান, কিছু গরু অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এমন অবস্থায় তা জবাই করে মাংস বিক্রয় করা হয়। যদি পশু জবাইয়ের আইন মানতে বাধ্য করা যেতো, তাহলে হয়তো আমরা নিরাপদে গরুর মাংস ক্রয় করে খেতে পারতাম। বিষয়টি অতীত গুরুত্বের সহিত বিবেচনা পূর্বক খতিয়ে দেখবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: শাহ আলম জানান, পৌর বাজারের প্রধান সড়কের উপর চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রয়ের অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো: তৌহিদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।