১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে সরাতে হবে -জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান

  • Reporter Name
  • ০৩:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪
  • ২১১

বগুড়া প্রতিনিধি: সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে সরানোর দাবী জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্ন্তর্বতী সরকারকে কোন অবস্থাতেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবেনা। সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা বসে আছে। তারাই নানাভাবে সরকারকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু জনগণ এই সরকারকে ব্যর্থ হতে দিবেনা। সরকারের অনেক উপদেষ্টাও সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। দেশবাসী শেখ হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছে, ঠিক একই ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদেরও রুখে দিবে। সরকারের কোন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করলে তাকেও বিদায় নিতে হবে।

সোমবার বগুড়ায় জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের কলোনীস্থ শাহওয়ালী উল্লাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে দুই পর্বে সভাপতিত্বে করেন বগুড়া শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার। শহর সেক্রেটারী অধ্যাপক আ,স,ম আব্দুল মালেকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য মাওলানা আব্দুর রহিম ও নজরুল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘ দু:শাসনে গোটা দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে অর্থনীতি দেওলিয়া করেছে। একদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রথম সারির নেতাদের মিথ্যা, সাজানো মামলায় হত্যা করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মিকে মিথ্যা, কাল্পনিক মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। তিনি ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জালিম সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এখনো তাদের প্রেতাত্মা রয়ে গেছে।

এরাই নানা পরিচয়ে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। এমনকি সরকারের অনেক উপদেষ্টাও সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্ন্তর্বতী সরকারকে কোন অবস্থাতেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবেনা। দেশবাসী শেখ হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছে, ঠিক একই ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদেরও রুখে দিবে। সরকারের কোন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করলে তাকেও বিদায় নিতে হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারন করেন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার অবশ্যই করতে হবে। যারা সরাসরি গণহত্যার সাথে জড়িত এবং যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনে যেসব দক্ষ, যোগ্য কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদের শাসনামলে বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে যথাযথ জায়গায় বসাতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনভাবেই পূনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবেনা।

জামায়াতের রুকনদের উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ৫ আগষ্টের পর দেশে দাওয়াতী কাজের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে পাড়া মহল্লায় ইসলামের সুমহান দাওয়াত পৌঁছানোর মাধ্যমে সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। জামায়াতের প্রতিটি রুকনকে ইসলামী জ্ঞানের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে মানুষকে ইসলামের পথে আকৃষ্ট করতে হবে।

ব্যক্তি এবং পরিবারে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরনের মাধ্যমে নিজেকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি সমাজসেবায় নিজেদেরকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার জন্য রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে বগুড়া শহর ও জেলা শাখার মহিলা রুকনদের পৃথক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নতুন শেসনের জন্য শহর ও জেলা আমির নির্বাচনে রুকনদের সরাসরি ভোটগ্রহন করা হয়।

উল্লেখ্য, বগুড়ায় জামায়াতের বর্তমান রুকন সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৯১০ জন এবং মহিলা ২ হাজার ৬৯ জন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সরকারের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে সরাতে হবে -জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান

০৩:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৪

বগুড়া প্রতিনিধি: সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের অবিলম্বে সরানোর দাবী জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্ন্তর্বতী সরকারকে কোন অবস্থাতেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবেনা। সরকারের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা বসে আছে। তারাই নানাভাবে সরকারকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু জনগণ এই সরকারকে ব্যর্থ হতে দিবেনা। সরকারের অনেক উপদেষ্টাও সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। দেশবাসী শেখ হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছে, ঠিক একই ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদেরও রুখে দিবে। সরকারের কোন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করলে তাকেও বিদায় নিতে হবে।

সোমবার বগুড়ায় জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের কলোনীস্থ শাহওয়ালী উল্লাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে দুই পর্বে সভাপতিত্বে করেন বগুড়া শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আবিদুর রহমান সোহেল ও জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার। শহর সেক্রেটারী অধ্যাপক আ,স,ম আব্দুল মালেকের সঞ্চালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া অঞ্চলের টীম সদস্য মাওলানা আব্দুর রহিম ও নজরুল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘ দু:শাসনে গোটা দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে অর্থনীতি দেওলিয়া করেছে। একদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রথম সারির নেতাদের মিথ্যা, সাজানো মামলায় হত্যা করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মিকে মিথ্যা, কাল্পনিক মামলা দিয়ে কারারুদ্ধ করে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। তিনি ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জালিম সরকারের পতন ঘটিয়েছেন। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এখনো তাদের প্রেতাত্মা রয়ে গেছে।

এরাই নানা পরিচয়ে দেশে বিশৃংখলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত। এমনকি সরকারের অনেক উপদেষ্টাও সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না। ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত অর্ন্তর্বতী সরকারকে কোন অবস্থাতেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবেনা। দেশবাসী শেখ হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছে, ঠিক একই ভাবে ষড়যন্ত্রকারীদেরও রুখে দিবে। সরকারের কোন উপদেষ্টা ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা করলে তাকেও বিদায় নিতে হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারন করেন।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যায় জড়িতদের বিচার অবশ্যই করতে হবে। যারা সরাসরি গণহত্যার সাথে জড়িত এবং যারা ফ্যাসিবাদের দোসর তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রশাসনে যেসব দক্ষ, যোগ্য কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদের শাসনামলে বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে যথাযথ জায়গায় বসাতে হবে। ফ্যাসিবাদের দোসরদের কোনভাবেই পূনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবেনা।

জামায়াতের রুকনদের উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ৫ আগষ্টের পর দেশে দাওয়াতী কাজের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে পাড়া মহল্লায় ইসলামের সুমহান দাওয়াত পৌঁছানোর মাধ্যমে সংগঠনকে মজবুত করতে হবে। জামায়াতের প্রতিটি রুকনকে ইসলামী জ্ঞানের জগতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। চারিত্রিক মাধুর্য দিয়ে মানুষকে ইসলামের পথে আকৃষ্ট করতে হবে।

ব্যক্তি এবং পরিবারে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরনের মাধ্যমে নিজেকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে। তিনি সমাজসেবায় নিজেদেরকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার জন্য রুকনদের প্রতি আহ্বান জানান। পরে বগুড়া শহর ও জেলা শাখার মহিলা রুকনদের পৃথক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নতুন শেসনের জন্য শহর ও জেলা আমির নির্বাচনে রুকনদের সরাসরি ভোটগ্রহন করা হয়।

উল্লেখ্য, বগুড়ায় জামায়াতের বর্তমান রুকন সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৯১০ জন এবং মহিলা ২ হাজার ৬৯ জন।