১১:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে পাকুড় গাছের শিকড়ে ঘেরা প্রাচীন মসজিদ

  • Reporter Name
  • ০৩:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • ২৪২

filter: 0; jpegRotation: 0; fileterIntensity: 0.000000; filterMask: 0; module:1facing:0; hw-remosaic: 0; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: Hdr; cct_value: 0; AI_Scene: (-1, -1); aec_lux: 91.0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0;

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া) থেকেঃ বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোরতা গ্রামের প্রায় ৩০০ গজ পূর্বপাশে অবস্থিত প্রায় একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। মসজিদটির উপর গজে উঠা পাকুড় গাছের শিকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো মসজিদের ওয়াল ও গুম্বুজ।

ঝোপ-জঙ্গলের ভিতরে থাকা এই মসজিদ কয়েক বছর আগে কারো নজরেই আসেনি। স্থানীয়রাও কোনোদিন মনে করেনি এটি একটি প্রাচীন মসজিদ। অনেকে প্রাচীন স্থাপনা মনে করলেও তেমন গুরুত্ব ছিল না সেটি নিয়ে। মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে তা দেখার জন্য মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। বর্তমানে দূরদুরান্ত থেকে অনেক মানুষ ছুঁটে আসেন এই মসজিদটি দেখার জন্য।

আগে মানুষের ধারণা না থাকলেও সময়ের প্রয়োজনে যখন ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলা হয় তখন মানুষের নজরে আসে প্রাচীনকালের তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদ। গুন্নিপাড়া জঙ্গলের এই প্রাচীন মসজিদের কথা স্থানীয়ভাবে প্রচার হলে সকলে মসজিদটি দেখার জন্য ছুঁটে যান সেখানে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও এই মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুঁটে আসেন।

কাহালু উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে বোরতা-সিন্দুরাইল গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এই মসজিদ। কখন কীভাবে কে নির্মাণ করেছে এই মসজিদ সেই ইতিহাস বা ধারণা নেই কোনো মানুষের মধ্যে। তবে অনেকের ধারণামতে ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসন আমলের স্বর্ণযুগে এই মসজিটি নির্মাণ হতে পারে। এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ১২ ফুট আর প্রস্ত ৮ ফিটের মত হবে। পাতলা ইট দিয়ে চুনসুরকির গাঁথুনি মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় দুই ফিটের মত হবে। মসজিদের ভিতরে ঢুকতে হলে মাথা হেলে ঢুকতে হবে। এই মসজিদে বেশি হলে ৭/৮ জন ব্যক্তির নামাজের জায়গা রয়েছে। তবে বর্তমানে এখানে নামাজ পড়ার মত এখন আর কোনো পরিবেশ নেই।

বোরতা গ্রামের কোব্বাত, মুন্টু ফকির, শাকোহালী গ্রামের মিন্টু খানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গুন্নিপাড়া জঙ্গল এলাকা ঝোপ-জঙ্গল আর উঁচু ঢিবির মত ছিল। সেখানে আগে মানুষের তেমন যাওয়্ াআসাও ছিলনা। সময়ের প্রয়োজনে কয়েক বছর আগে সেখানকার ঝোপ-জঙ্গল কেটে উঁচু মাটি সমান করে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করা হয়। সেখানকার অনেক ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলা হলেও মসজিদের উপর তিনটি বিশাল পাকুড় গাছ কেটে ফেলার সাহস আজও কেউ পাননি। আগে এই মসজিদ নিয়ে মানুষের কোনো আগ্রহ না থাকলেও প্রাচীনকালের এই মসজিদ দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসে।

জানা গেছে আগে এই মসজিদে যাওয়ার মত কোনো রাস্তা ছিলনা। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করার পর দর্শনার্থীদের পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার মত একটি সরু রাস্তা করা হয়েছে।

 

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে পাকুড় গাছের শিকড়ে ঘেরা প্রাচীন মসজিদ

০৩:১৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

মুনসুর রহমান তানসেন, কাহালু (বগুড়া) থেকেঃ বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোরতা গ্রামের প্রায় ৩০০ গজ পূর্বপাশে অবস্থিত প্রায় একটি প্রাচীন মসজিদ রয়েছে। মসজিদটির উপর গজে উঠা পাকুড় গাছের শিকড়-বাকড়ে ছেয়ে গেছে পুরো মসজিদের ওয়াল ও গুম্বুজ।

ঝোপ-জঙ্গলের ভিতরে থাকা এই মসজিদ কয়েক বছর আগে কারো নজরেই আসেনি। স্থানীয়রাও কোনোদিন মনে করেনি এটি একটি প্রাচীন মসজিদ। অনেকে প্রাচীন স্থাপনা মনে করলেও তেমন গুরুত্ব ছিল না সেটি নিয়ে। মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকে তা দেখার জন্য মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। বর্তমানে দূরদুরান্ত থেকে অনেক মানুষ ছুঁটে আসেন এই মসজিদটি দেখার জন্য।

আগে মানুষের ধারণা না থাকলেও সময়ের প্রয়োজনে যখন ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলা হয় তখন মানুষের নজরে আসে প্রাচীনকালের তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদ। গুন্নিপাড়া জঙ্গলের এই প্রাচীন মসজিদের কথা স্থানীয়ভাবে প্রচার হলে সকলে মসজিদটি দেখার জন্য ছুঁটে যান সেখানে। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও এই মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুঁটে আসেন।

কাহালু উপজেলা সদর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে বোরতা-সিন্দুরাইল গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এই মসজিদ। কখন কীভাবে কে নির্মাণ করেছে এই মসজিদ সেই ইতিহাস বা ধারণা নেই কোনো মানুষের মধ্যে। তবে অনেকের ধারণামতে ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসন আমলের স্বর্ণযুগে এই মসজিটি নির্মাণ হতে পারে। এই মসজিদের দৈর্ঘ্য ১২ ফুট আর প্রস্ত ৮ ফিটের মত হবে। পাতলা ইট দিয়ে চুনসুরকির গাঁথুনি মসজিদের দেয়ালগুলো প্রায় দুই ফিটের মত হবে। মসজিদের ভিতরে ঢুকতে হলে মাথা হেলে ঢুকতে হবে। এই মসজিদে বেশি হলে ৭/৮ জন ব্যক্তির নামাজের জায়গা রয়েছে। তবে বর্তমানে এখানে নামাজ পড়ার মত এখন আর কোনো পরিবেশ নেই।

বোরতা গ্রামের কোব্বাত, মুন্টু ফকির, শাকোহালী গ্রামের মিন্টু খানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গুন্নিপাড়া জঙ্গল এলাকা ঝোপ-জঙ্গল আর উঁচু ঢিবির মত ছিল। সেখানে আগে মানুষের তেমন যাওয়্ াআসাও ছিলনা। সময়ের প্রয়োজনে কয়েক বছর আগে সেখানকার ঝোপ-জঙ্গল কেটে উঁচু মাটি সমান করে ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করা হয়। সেখানকার অনেক ঝোপ-জঙ্গল কেটে ফেলা হলেও মসজিদের উপর তিনটি বিশাল পাকুড় গাছ কেটে ফেলার সাহস আজও কেউ পাননি। আগে এই মসজিদ নিয়ে মানুষের কোনো আগ্রহ না থাকলেও প্রাচীনকালের এই মসজিদ দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসে।

জানা গেছে আগে এই মসজিদে যাওয়ার মত কোনো রাস্তা ছিলনা। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ঈদগাহ মাঠ নির্মাণ করার পর দর্শনার্থীদের পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার মত একটি সরু রাস্তা করা হয়েছে।