০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় ধান কেটে মজুরি না পাওয়ায় ৫ দিনমজুরের থানায় অভিযোগ

  • Reporter Name
  • ০৪:৩২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫
  • ৬৩৫

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার শেরপুরে ধান কেটে মজুরি না পাওয়ায় পাঁচ দিনমজুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সোমবার (১৯ মে) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগকারী শ্রমিক আব্দুল হান্নান (৫৭) শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।

তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো কাস্তে ও বাঁশের তৈরি ‘বাইন’ কাঁধে করে সোমবার সকালে শেরপুর শহরের নবীবালা ঘাটপাড় সংলগ্ন ‘শ্রমিক হাটে’ কাজের সন্ধানে যান। সেখান থেকে মির্জাপুরের রাজেক আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস তাঁদের পাঁচজনকে প্রতিজন ৭০০ টাকা মজুরি দেওয়ার শর্তে দেড় বিঘা জমির ধান কাটার কাজে নিয়ে যান।

দিনভর খেটে ধান কেটে মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পর কুদ্দুস কাজের মান খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের গালাগালি করেন এবং মজুরি না দিয়ে হুমকি দিয়ে বিতাড়িত করেন।
আব্দুল হান্নান আরও বলেন, ‘কাজ করেও টাকা না পেয়ে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়ি। উপায় না দেখে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করি।’

তার সঙ্গে থানায় অভিযোগ করা অন্য শ্রমিকরা হলেন- মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর মণ্ডলের ছেলে হাফিজুর রহমান, মৃত সাহেব আলী প্রামাণিকের ছেলে আশরাফ আলী, মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের ছেলে রিপন ও আবির হোসেন আকন্দের ছেলে হুমায়ুন কবির।

শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকালে ‘শ্রমিক হাটে’ গিয়ে কাজ খোঁজেন তারা। দিনমজুরির আয়ই তাদের একমাত্র অবলম্বন। কোনো দিন কাজ না পেলে পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকতে হয়। আর কাজ করেও যদি মজুরি না মেলে, তাহলে সেই কষ্টের কি মূল্য থাকে?

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জমির মালিক আব্দুল কুদ্দুসের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় ধান কেটে মজুরি না পাওয়ায় ৫ দিনমজুরের থানায় অভিযোগ

০৪:৩২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ মে ২০২৫

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার শেরপুরে ধান কেটে মজুরি না পাওয়ায় পাঁচ দিনমজুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সোমবার (১৯ মে) উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

অভিযোগকারী শ্রমিক আব্দুল হান্নান (৫৭) শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে।

তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো কাস্তে ও বাঁশের তৈরি ‘বাইন’ কাঁধে করে সোমবার সকালে শেরপুর শহরের নবীবালা ঘাটপাড় সংলগ্ন ‘শ্রমিক হাটে’ কাজের সন্ধানে যান। সেখান থেকে মির্জাপুরের রাজেক আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস তাঁদের পাঁচজনকে প্রতিজন ৭০০ টাকা মজুরি দেওয়ার শর্তে দেড় বিঘা জমির ধান কাটার কাজে নিয়ে যান।

দিনভর খেটে ধান কেটে মালিকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার পর কুদ্দুস কাজের মান খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের গালাগালি করেন এবং মজুরি না দিয়ে হুমকি দিয়ে বিতাড়িত করেন।
আব্দুল হান্নান আরও বলেন, ‘কাজ করেও টাকা না পেয়ে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়ি। উপায় না দেখে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করি।’

তার সঙ্গে থানায় অভিযোগ করা অন্য শ্রমিকরা হলেন- মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামের মৃত মনসুর মণ্ডলের ছেলে হাফিজুর রহমান, মৃত সাহেব আলী প্রামাণিকের ছেলে আশরাফ আলী, মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের ছেলে রিপন ও আবির হোসেন আকন্দের ছেলে হুমায়ুন কবির।

শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সকালে ‘শ্রমিক হাটে’ গিয়ে কাজ খোঁজেন তারা। দিনমজুরির আয়ই তাদের একমাত্র অবলম্বন। কোনো দিন কাজ না পেলে পরিবার নিয়ে অনাহারে থাকতে হয়। আর কাজ করেও যদি মজুরি না মেলে, তাহলে সেই কষ্টের কি মূল্য থাকে?

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জমির মালিক আব্দুল কুদ্দুসের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।