১২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় আদালতের নিরাপত্তা ভেদ করে পালালো জোড়া খুনের আসামী রফিকুল

  • Reporter Name
  • ০৩:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৮০

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ায় আদালতের মত কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় ঘটলো রীতিমতো চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার সামনে থেকে পালিয়ে যায় আলোচিত জোড়া খুন ও ডাকাতি মামলার আসামী রফিকুল ইসলাম (৪০)। ঘটনার পর আদালতপাড়ায় দেখা দেয় আতঙ্ক ও উত্তেজনা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতায় বড় প্রশ্ন উঠে যায়। রফিকুল ইসলাম বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চকপাড়া গ্রামের নছির আকন্দের ছেলে।

আদালতের গেটের সামনে থেকে পুলিশি নজর এড়িয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় সে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আদালতের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তার বড় ফাঁকফোকর ছাড়া সম্ভব নয়।

ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে চিরুনি অভিযান চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আদালত পুলিশের অবহেলার কারণে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

যে মামলায় আসামী রফিকুল

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে দুপচাঁচিয়ার জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামে ভয়াবহ ডাকাতি ও জোড়া খুনের ঘটনায় অন্যতম আসামি ছিলেন রফিকুল ইসলাম। ওই রাতে সৌদি প্রবাসী শাহজাহানের স্ত্রী রিভা আক্তার (৩০) ও শ্বশুর আফতাব উদ্দিন (৭০) নির্মমভাবে খুন হন। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় পরিবারের শিশু রুকাইয়া তাসনিম মালিহা। হত্যার পর নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় ডাকাতরা।

মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও পাঁচ আসামী এখনো পলাতক। উদ্ধার হয়নি মূল লুণ্ঠিত অর্থ ও স্বর্ণালংকারও। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রফিকুলসহ গ্রেপ্তার আসামীরা জানায়, মোট ১১ জন ওই ডাকাতিতে অংশ নিয়েছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ মৃত আফতাব উদ্দিনের কন্যা তহমিনা বিবি বলেন, “ছয়জন গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী পাঁচ আসামী বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন আবার রফিকুল আদালত পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেল। এতে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশের গাফিলতি নাকি ইচ্ছাকৃত পালিয়ে দেয়া এর সঠিক তদন্ত চাই।”

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর রাকিব বলেন, “পলাতক আসামীদের ধরতে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”বগুড়া পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পিপিএম জানান, “এ মামলাটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। দ্রুততম সময়ে সব আসামীকে গ্রেপ্তার করে চার্জশিট দাখিলের চেষ্টা চলছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মোবাইল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, লোকাল ইনফরমার নেটওয়ার্ক সক্রিয়করণ এবং আশপাশের জেলায় একযোগে অভিযান চালানো জরুরি। পাশাপাশি, বাদীপক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের হেফাজত থেকে জোড়া খুন মামলার আসামি দিনের বেলায় পালিয়ে যাওয়া শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার নজির নয়, বরং ভুক্তভোগী পরিবারকে নতুন করে আতঙ্কিত করেছে। যতদিন না সব আসামি ধরা পড়ছে এবং লুণ্ঠিত অর্থ–স্বর্ণালংকার উদ্ধার হচ্ছে, ততদিন এ মামলার বিচার কার্যকরভাবে এগোবে না।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় আদালতের নিরাপত্তা ভেদ করে পালালো জোড়া খুনের আসামী রফিকুল

০৩:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ বগুড়ায় আদালতের মত কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় ঘটলো রীতিমতো চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। সোমবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার সামনে থেকে পালিয়ে যায় আলোচিত জোড়া খুন ও ডাকাতি মামলার আসামী রফিকুল ইসলাম (৪০)। ঘটনার পর আদালতপাড়ায় দেখা দেয় আতঙ্ক ও উত্তেজনা। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতায় বড় প্রশ্ন উঠে যায়। রফিকুল ইসলাম বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার চকপাড়া গ্রামের নছির আকন্দের ছেলে।

আদালতের গেটের সামনে থেকে পুলিশি নজর এড়িয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় সে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আদালতের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা দায়িত্বে অবহেলা ও নিরাপত্তার বড় ফাঁকফোকর ছাড়া সম্ভব নয়।

ঘটনার পর আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে চিরুনি অভিযান চালানো হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আদালত পুলিশের অবহেলার কারণে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ আসতে পারে বলেও জানা গেছে।

যে মামলায় আসামী রফিকুল

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে দুপচাঁচিয়ার জিয়ানগর ইউনিয়নের লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামে ভয়াবহ ডাকাতি ও জোড়া খুনের ঘটনায় অন্যতম আসামি ছিলেন রফিকুল ইসলাম। ওই রাতে সৌদি প্রবাসী শাহজাহানের স্ত্রী রিভা আক্তার (৩০) ও শ্বশুর আফতাব উদ্দিন (৭০) নির্মমভাবে খুন হন। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যায় পরিবারের শিশু রুকাইয়া তাসনিম মালিহা। হত্যার পর নগদ ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা ও প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় ডাকাতরা।

মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও পাঁচ আসামী এখনো পলাতক। উদ্ধার হয়নি মূল লুণ্ঠিত অর্থ ও স্বর্ণালংকারও। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে রফিকুলসহ গ্রেপ্তার আসামীরা জানায়, মোট ১১ জন ওই ডাকাতিতে অংশ নিয়েছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ মৃত আফতাব উদ্দিনের কন্যা তহমিনা বিবি বলেন, “ছয়জন গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী পাঁচ আসামী বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখন আবার রফিকুল আদালত পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে গেল। এতে আমরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশের গাফিলতি নাকি ইচ্ছাকৃত পালিয়ে দেয়া এর সঠিক তদন্ত চাই।”

তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ইন্সপেক্টর রাকিব বলেন, “পলাতক আসামীদের ধরতে একাধিক স্থানে অভিযান চলছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”বগুড়া পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পিপিএম জানান, “এ মামলাটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। দ্রুততম সময়ে সব আসামীকে গ্রেপ্তার করে চার্জশিট দাখিলের চেষ্টা চলছে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে মোবাইল ট্র্যাকিং, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, লোকাল ইনফরমার নেটওয়ার্ক সক্রিয়করণ এবং আশপাশের জেলায় একযোগে অভিযান চালানো জরুরি। পাশাপাশি, বাদীপক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের হেফাজত থেকে জোড়া খুন মামলার আসামি দিনের বেলায় পালিয়ে যাওয়া শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার নজির নয়, বরং ভুক্তভোগী পরিবারকে নতুন করে আতঙ্কিত করেছে। যতদিন না সব আসামি ধরা পড়ছে এবং লুণ্ঠিত অর্থ–স্বর্ণালংকার উদ্ধার হচ্ছে, ততদিন এ মামলার বিচার কার্যকরভাবে এগোবে না।