০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে তিন ফসলি কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি

  • Reporter Name
  • ০৩:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২১৩

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নে তিন ফসলি কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থেকে ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝবাড়ী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান পিন্টু, জিয়াউর রহমান মোল্লা ও আবু বক্কর সিদ্দিক জমির মাটি বিক্রি করেছেন। অপরদিকে একই গ্রামের আব্দুল মোল্লা ও আবু বক্কর সিদ্দিক বক্কা মাটি কেটে পরিবহন করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতোমধ্যে ওই এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমির টপ সয়েল অপসারণ করা হয়েছে, ফলে জমিগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত নিচু হয়ে গেছে।
মাটি পরিবহনের জন্য আশপাশের কৃষিজমির ওপর জোরপূর্বক অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন একাধিক কৃষক। পাশাপাশি ফুলবাড়ি গোহাটি থেকে রামচন্দ্রপুরগামী গ্রামীণ সড়কটি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তারা জমির মাটি কাটায় বাধা দিলেও ইটভাটার লোকজন জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জমি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিজমির উপরের উর্বর টপ সয়েল অপসারণের ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষক শহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, “আমার জমির চারপাশের জমিগুলো কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৪ ফুট নিচু হয়ে গেছে। বর্ষাকালে আমার জমিও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আমরা প্রতিবাদ করলেও তারা জোর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রামের পাকা রাস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

উল্লেখ্য, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে টপ সয়েল অপসারণ অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, “কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। খুব শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সারিয়াকান্দিতে তিন ফসলি কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি

০৩:৫৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নে তিন ফসলি কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি থেকে ৩ থেকে ৪ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ট্রাকযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঝবাড়ী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান পিন্টু, জিয়াউর রহমান মোল্লা ও আবু বক্কর সিদ্দিক জমির মাটি বিক্রি করেছেন। অপরদিকে একই গ্রামের আব্দুল মোল্লা ও আবু বক্কর সিদ্দিক বক্কা মাটি কেটে পরিবহন করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতোমধ্যে ওই এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমির টপ সয়েল অপসারণ করা হয়েছে, ফলে জমিগুলো ৩ থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত নিচু হয়ে গেছে।
মাটি পরিবহনের জন্য আশপাশের কৃষিজমির ওপর জোরপূর্বক অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন একাধিক কৃষক। পাশাপাশি ফুলবাড়ি গোহাটি থেকে রামচন্দ্রপুরগামী গ্রামীণ সড়কটি ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তারা জমির মাটি কাটায় বাধা দিলেও ইটভাটার লোকজন জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে জমি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিজমির উপরের উর্বর টপ সয়েল অপসারণের ফলে জমির উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

কৃষক শহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, “আমার জমির চারপাশের জমিগুলো কয়েকদিনের মধ্যে প্রায় ৪ ফুট নিচু হয়ে গেছে। বর্ষাকালে আমার জমিও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। আমরা প্রতিবাদ করলেও তারা জোর করে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রামের পাকা রাস্তাও নষ্ট হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”

উল্লেখ্য, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে টপ সয়েল অপসারণ অব্যাহত থাকলে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমবে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, “কৃষিজমির টপ সয়েল কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। খুব শিগগিরই সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”