০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার ৭টি আসনে জয়-পরাজয়ে ভুমিকা রাখতে পারে নিষিদ্ধ আ’লীগের ১১ লাখ ভোটার!

  • Reporter Name
  • ০১:০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৮০

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সময় আছে আর মাত্র ৫ দিন। বর্তমানে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। প্রতিদিন প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। করছেন সভা-সমাবেশ গণসংযোগ। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি।

নির্বাচনে বগুড়ায় সাতটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ ৯টি রাজনৈতিক দল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৩৪ জন। তবে ভোটের মাঠে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ; কিন্তু এসব আসনে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক ভোট রয়েছে। কাদের বাক্সে যাবে এ ভোট, তা নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানান কথা। যদিও বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলেরই নজর রয়েছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রায় ১১ লাখ ভোট ব্যাংকের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হলেও এখানে কোনো আসনেই আওয়ামী লীগের ভোট নেহাতই কম নয়, যা জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

এবার বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৩৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৩৭০ আর নারী

১৫ লাখ ৯৪১ জন। এর মধ্যে মহাজোটের ভোট রয়েছে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৭১২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বগুড়ার সাতটি আসনে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে ৫টি আসনে জয়লাভ করে। সেই নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতায় বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি- সোনাতলা) ও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসন হারাতে হয় বিএনপি জোটকে। এ দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন করায় জয়ের মুখ দেখতে পারেনি।
২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন মহাজোট সাতটি আসনে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৩টি ভোট পেয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে। মাঝে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট অংশ নেয়নি। তবে এক দশক পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে ২০১৮ সালের বিএনপির জোট বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোট পায় ৭ লাখ ১০ হাজার ৫৯২। এই ভোট পেয়ে মাত্র তিনটি আসনে বিজয়ী হয় তারা। আর মহাজোট সাতটি আসনে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে চারটি আসনে জয়লাভ করে।

এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। তবে ২, ৩ ও ৪ এ তিন আসনে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করছে। এসব প্রার্থী মাঠে থাকলেও প্রচার-প্রচারণা অনেক পিছিয়ে। আর আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকার কারণে বড় দল বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের নজর রয়েছে এই ভোটের দিকে। তারা নানা চেষ্টায় এ ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছেন।

এর মধ্যে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এবং ও জাতীয় পার্টির প্রচার-প্রচারণা না থাকায় তাদের ভোট ধানের শীষের পক্ষেই পড়বে বলে দাবি করেছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আছার উদ্দিন বলেন, ভোটে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে; কিন্তু তিনি মামলার আসামি। তাছাড়া তার কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। এজন্য আমরা আশা করছি, মহাজোটের ভোট আমরা পাব ইনশাল্লাহ।

বগুড়া-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজ বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষকে বিজয়ী করতে শতভাগ ভোট ধানের শীষে পড়বে। একই আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দবিবুর রহমান বলেন, শুধু নৌকার সমর্থক নয়, বিএনপির অনেক কর্মী- সমর্থকের ভোটও তিনি পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।

বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন দুজনই আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ভোট নিজেদের পক্ষে আসবে বলে জানান মুঠোফোনে।

বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ — দুজনই আওয়ামী লীগের ভোটের আশা করছেন। বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার ও জামায়াতের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তারাও আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার আশা করছেন। সূত্র-দৈনিক কালবেলা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ার ৭টি আসনে জয়-পরাজয়ে ভুমিকা রাখতে পারে নিষিদ্ধ আ’লীগের ১১ লাখ ভোটার!

০১:০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সময় আছে আর মাত্র ৫ দিন। বর্তমানে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। প্রতিদিন প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। করছেন সভা-সমাবেশ গণসংযোগ। দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি।

নির্বাচনে বগুড়ায় সাতটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ ৯টি রাজনৈতিক দল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৩৪ জন। তবে ভোটের মাঠে নেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ; কিন্তু এসব আসনে আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক ভোট রয়েছে। কাদের বাক্সে যাবে এ ভোট, তা নিয়ে শোনা যাচ্ছে নানান কথা। যদিও বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলেরই নজর রয়েছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রায় ১১ লাখ ভোট ব্যাংকের দিকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি হলেও এখানে কোনো আসনেই আওয়ামী লীগের ভোট নেহাতই কম নয়, যা জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

এবার বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৩৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৪ লাখ ৮০ হাজার ৩৭০ আর নারী

১৫ লাখ ৯৪১ জন। এর মধ্যে মহাজোটের ভোট রয়েছে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৭১২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট বগুড়ার সাতটি আসনে ১০ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৩ ভোট পেয়ে ৫টি আসনে জয়লাভ করে। সেই নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে জটিলতায় বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি- সোনাতলা) ও বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসন হারাতে হয় বিএনপি জোটকে। এ দুটি আসনে বিএনপি প্রার্থী পরিবর্তন করায় জয়ের মুখ দেখতে পারেনি।
২০০৮ সালের ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন মহাজোট সাতটি আসনে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৩টি ভোট পেয়ে দুটি আসনে জয়লাভ করে। মাঝে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট অংশ নেয়নি। তবে এক দশক পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যানে ২০১৮ সালের বিএনপির জোট বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোট পায় ৭ লাখ ১০ হাজার ৫৯২। এই ভোট পেয়ে মাত্র তিনটি আসনে বিজয়ী হয় তারা। আর মহাজোট সাতটি আসনে ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে চারটি আসনে জয়লাভ করে।

এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নেই আওয়ামী লীগ। তবে ২, ৩ ও ৪ এ তিন আসনে জাতীয় পার্টি নির্বাচন করছে। এসব প্রার্থী মাঠে থাকলেও প্রচার-প্রচারণা অনেক পিছিয়ে। আর আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকার কারণে বড় দল বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের নজর রয়েছে এই ভোটের দিকে। তারা নানা চেষ্টায় এ ভোট নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছেন।

এর মধ্যে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের এক সমাবেশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় এবং ও জাতীয় পার্টির প্রচার-প্রচারণা না থাকায় তাদের ভোট ধানের শীষের পক্ষেই পড়বে বলে দাবি করেছেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আছার উদ্দিন বলেন, ভোটে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে; কিন্তু তিনি মামলার আসামি। তাছাড়া তার কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। এজন্য আমরা আশা করছি, মহাজোটের ভোট আমরা পাব ইনশাল্লাহ।

বগুড়া-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজ বলেন, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষকে বিজয়ী করতে শতভাগ ভোট ধানের শীষে পড়বে। একই আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দবিবুর রহমান বলেন, শুধু নৌকার সমর্থক নয়, বিএনপির অনেক কর্মী- সমর্থকের ভোটও তিনি পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।

বগুড়া-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন দুজনই আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকদের ভোট নিজেদের পক্ষে আসবে বলে জানান মুঠোফোনে।

বগুড়া-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ — দুজনই আওয়ামী লীগের ভোটের আশা করছেন। বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল মুহিত তালুকদার ও জামায়াতের প্রার্থী নুর মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, তারাও আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার আশা করছেন। সূত্র-দৈনিক কালবেলা।