০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে ৩ জন আহত, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা

  • Reporter Name
  • ০২:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০০

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম এবং শিবির নেতা গালিব। আহতদের মধ্যে গালিবকে গুরুতর অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে একটি বাড়িতে গোপন বৈঠক করে টাকা বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন তথ্য পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে বেলাল হোসেনসহ জামায়াতের দুই নেতাকে টাকাসহ অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেন।

তিনি আরও জানান, খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট চালায়।

অন্যদিকে নন্দীগ্রাম পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা বিতরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়। দ্রুত সমাধান না হওয়ায় তারা নিজেরাই ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে গিয়ে হামলার শিকার হন।

জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, তাদের কর্মী জুলাইযোদ্ধা গালিব নির্বাচনি কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হন। এছাড়া একই রাতে পারশন গ্রাম থেকে তাদের নেতা ফারুক ও বেলালকে ধরে নিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত–বিএনপি সংঘর্ষে ৩ জন আহত, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তেজনা

০২:৩৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা মজিদ, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম এবং শিবির নেতা গালিব। আহতদের মধ্যে গালিবকে গুরুতর অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে আওয়ামী লীগ নেতা বেলাল হোসেন জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে একটি বাড়িতে গোপন বৈঠক করে টাকা বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন তথ্য পেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে বেলাল হোসেনসহ জামায়াতের দুই নেতাকে টাকাসহ অবরুদ্ধ করে পুলিশকে খবর দেন।

তিনি আরও জানান, খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট চালায়।

অন্যদিকে নন্দীগ্রাম পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আলিম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টাকা বিতরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়। দ্রুত সমাধান না হওয়ায় তারা নিজেরাই ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে গিয়ে হামলার শিকার হন।

জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বলেন, তাদের কর্মী জুলাইযোদ্ধা গালিব নির্বাচনি কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হন। এছাড়া একই রাতে পারশন গ্রাম থেকে তাদের নেতা ফারুক ও বেলালকে ধরে নিয়ে একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।