সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে বিদ্যুৎ শক দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের শালিকার চর ও কাজলা ইউনিয়নের টেংরাকুড়া চরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) গোলাম শাকিল আহম্মেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ২টি ইনভার্টার, ৪টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি, বেশকিছু বৈদ্যুতিক তার এবং শক দিয়ে শিকার করা প্রায় ৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জব্দ করা হয়।
মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারির সাহায্যে ইনভার্টার দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা নদীর পানিতে ছড়িয়ে মাছ শিকার করে আসছিল। এ পদ্ধতিতে পানিতে থাকা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণি তড়িতাহত হয়ে ভেসে উঠলে সেগুলো হাতজাল দিয়ে সংগ্রহ করা হয়। ফলে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মাছ নয়, পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণিও নির্বিচারে মারা যাচ্ছে।
অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিমখানাগুলোতে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম শাকিল আহম্মেদ বলেন, “ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে শক দিয়ে নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এভাবে মাছ শিকার করলে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয় এবং নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।” তিনি আরও জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, যমুনা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাধারে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নদীর মাছের ভান্ডার হুমকির মুখে পড়বে। তাই নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগই পারে এ অনিয়ম রোধ করতে।
Reporter Name 

















