স্টাফ রিপোর্টার: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বগুড়ার সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি শুরু করেছে ঢাকাগামী ৮০৯/৮১০ নম্বর বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্টেশনটিতে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় সোনাতলা ও আশপাশের এলাকার যাত্রীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকেই সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। বিকেল ৩টার পর স্টেশন চত্বর শত শত মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের খবরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
যাত্রাবিরতি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক লিপন।
সোনাতলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম খান নিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাকুল ইসলাম রাজ্জাক ও সেলিম রেজা বাবলা। এ সময় উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বুড়িমারী এক্সপ্রেসের সোনাতলা স্টেশনে যাত্রাবিরতি ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। নির্বাচনের সময় স্থানীয়রা তাঁর কাছে এ দাবি জানিয়েছিলেন। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালু করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত ট্রেনটি সোনাতলা স্টেশনে থামবে।
স্থানীয় যাত্রী শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সোনাতলা স্টেশনে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই দাবি পূরণ হওয়ায় তাঁরা আনন্দিত।
আরেক যাত্রী সঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি স্থানীয় মানুষের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। এতে সোনাতলাসহ আশপাশের এলাকার যাত্রীরা উপকৃত হবেন।
সোনাতলা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মাজেদ মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার থেকে বুড়িমারী এক্সপ্রেস নিয়মিত এ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সোনাতলা স্টেশনে ট্রেনটির টিকিট বিক্রি শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, বুড়িমারী এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা উচ্ছ্বসিত।
স্থানীয়দের মতে, সোনাতলা স্টেশনে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি চালু হওয়ায় ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতে সময় ও ভোগান্তি কমার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।
Reporter Name 
















