০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সাঘাটায় দুই মাসে ১৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, আতঙ্কে শিক্ষকরা

  • Reporter Name
  • ০২:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ২২

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত দুই মাসেরও কম সময়ে উপজেলার অন্তত ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম, রাউটার ও পানির পাম্পের মোটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলার সুজালপুর, পাঠানপাড়া, খামারধনারুহা, বেলতৈল, ডিমলাপদুশহর, পদুমশহর শীলপাড়া, তেলিয়ান, নশিরারপাড়া, চেরাগীদহ, কুকড়াহাট, সন্যাসদহ, পদুমশহর ৭ টেকর, পদুমশহর মধ্যপাড়া, সানকিভাঙ্গা, অনন্তপুর, বাঙ্গাবাড়ী, কচুয়া ও চর নলছিয়াসহ অন্তত ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে থাকে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

সুজালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহল আমিন বলেন, নৈশপ্রহরী না থাকার সুযোগে রাতে চোরেরা বিদ্যালয় ভবনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে আলমারি তছনছ করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম ও রাউটার চুরি করে নিয়ে যায়।

সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফী বলেন, নৈশপ্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাউটার ও পানির পাম্পের মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় মামলা করা হয়েছে।

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ দুর হুদা বলেন, তিনি কয়েক দিন আগে থানায় যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি রাতে পুলিশি টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার, রাতের বেলায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান উপকরণ সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সোনাতলায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এখন অবহেলায়, বিজ্ঞান একাডেমি সংস্কারের দাবি

সাঘাটায় দুই মাসে ১৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, আতঙ্কে শিক্ষকরা

০২:০৬:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত দুই মাসেরও কম সময়ে উপজেলার অন্তত ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম, রাউটার ও পানির পাম্পের মোটরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চোর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাঘাটা উপজেলার সুজালপুর, পাঠানপাড়া, খামারধনারুহা, বেলতৈল, ডিমলাপদুশহর, পদুমশহর শীলপাড়া, তেলিয়ান, নশিরারপাড়া, চেরাগীদহ, কুকড়াহাট, সন্যাসদহ, পদুমশহর ৭ টেকর, পদুমশহর মধ্যপাড়া, সানকিভাঙ্গা, অনন্তপুর, বাঙ্গাবাড়ী, কচুয়া ও চর নলছিয়াসহ অন্তত ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়ে থাকে মূল্যবান শিক্ষা উপকরণ। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

সুজালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহল আমিন বলেন, নৈশপ্রহরী না থাকার সুযোগে রাতে চোরেরা বিদ্যালয় ভবনের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে আলমারি তছনছ করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, ইন্টারনেট মডেম ও রাউটার চুরি করে নিয়ে যায়।

সাঘাটা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফী বলেন, নৈশপ্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাউটার ও পানির পাম্পের মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটছে। অল্প সময়ের মধ্যে এ ধরনের চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় মামলা করা হয়েছে।

সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ দুর হুদা বলেন, তিনি কয়েক দিন আগে থানায় যোগদান করেছেন। বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি রাতে পুলিশি টহলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে, স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা জোরদার, রাতের বেলায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং চুরির সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যবান উপকরণ সুরক্ষিত রাখতে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।