০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে, তুলির ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে দেবী দুর্গা

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: শরতের স্নিগ্ধ আবহে বগুড়াজুড়ে বইতে শুরু করেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনি বার্তা। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, এরপরই ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও পূজার্চনায় মুখর হয়ে উঠবে মণ্ডপগুলো। উৎসবকে বরণ করে নিতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। কেউ মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা। একই সঙ্গে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গাপূজা। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ততই বাড়ছে আনন্দ ও উদ্দীপনা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার একটি প্রতিমা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। কেউ প্রতিমার গায়ে মাটির শেষ প্রলেপ দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রং ও অলংকরণের কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করে সরবরাহ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ।

কারখানাটির স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামাণিক জানান, এ বছর বগুড়া সদর ও আশপাশের উপজেলাসহ জামালপুর ও নওগাঁ থেকে মোট ২০টি প্রতিমার সেট তৈরির অর্ডার পেয়েছেন তারা। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ডার কিছুটা কম। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল ও শ্রমিকদের মজুরি। ফলে উৎপাদন খরচও আগের চেয়ে বেশি। প্রতিটি প্রতিমার সেট ২৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও তৈরি হচ্ছে প্রবেশপথ, কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আবার কোথাও সাজানো হচ্ছে আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে ঘিরে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার বগুড়ার ১৩টি উপজেলায় মোট ৭৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৮১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন মহালয়ার অপেক্ষা। এরপর ঢাকের তালে, শঙ্খের ধ্বনিতে আর ভক্তদের আরাধনায় মুখর হয়ে উঠবে বগুড়ার পূজামণ্ডপগুলো। তুলির প্রতিটি আঁচড়ে শিল্পীদের হাতে গড়ে ওঠা দেবী দুর্গার প্রতিমাকে ঘিরেই শুরু হবে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সোনাতলায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চার কেন্দ্র এখন অবহেলায়, বিজ্ঞান একাডেমি সংস্কারের দাবি

বগুড়ায় প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে, তুলির ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছে দেবী দুর্গা

০৩:২৯:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: শরতের স্নিগ্ধ আবহে বগুড়াজুড়ে বইতে শুরু করেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনি বার্তা। আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, এরপরই ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও পূজার্চনায় মুখর হয়ে উঠবে মণ্ডপগুলো। উৎসবকে বরণ করে নিতে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। কেউ মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন, কেউ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা। একই সঙ্গে চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হবে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গাপূজা। প্রচলিত পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ততই বাড়ছে আনন্দ ও উদ্দীপনা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বগুড়া শহরের উত্তর চেলোপাড়ার একটি প্রতিমা তৈরির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। কেউ প্রতিমার গায়ে মাটির শেষ প্রলেপ দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রং ও অলংকরণের কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা প্রস্তুত করে সরবরাহ করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ।

কারখানাটির স্বত্বাধিকারী কাজল চন্দ্র প্রামাণিক জানান, এ বছর বগুড়া সদর ও আশপাশের উপজেলাসহ জামালপুর ও নওগাঁ থেকে মোট ২০টি প্রতিমার সেট তৈরির অর্ডার পেয়েছেন তারা। গত বছরের তুলনায় এবার অর্ডার কিছুটা কম। অন্যদিকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল ও শ্রমিকদের মজুরি। ফলে উৎপাদন খরচও আগের চেয়ে বেশি। প্রতিটি প্রতিমার সেট ২৫ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে তৈরি করা হচ্ছে।

প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও তৈরি হচ্ছে প্রবেশপথ, কোথাও চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আবার কোথাও সাজানো হচ্ছে আলোকসজ্জা। সব মিলিয়ে দুর্গোৎসবকে ঘিরে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার বগুড়ার ১৩টি উপজেলায় মোট ৭৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৮১টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৫০টি।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি শ্রী পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকেও মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সব প্রস্তুতি শেষে এখন মহালয়ার অপেক্ষা। এরপর ঢাকের তালে, শঙ্খের ধ্বনিতে আর ভক্তদের আরাধনায় মুখর হয়ে উঠবে বগুড়ার পূজামণ্ডপগুলো। তুলির প্রতিটি আঁচড়ে শিল্পীদের হাতে গড়ে ওঠা দেবী দুর্গার প্রতিমাকে ঘিরেই শুরু হবে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।