স্টাফ রিপোর্টার, সোনাতলা: বগুড়ার সোনাতলায় গ্রাম্য সালিশ বৈঠক চলাকালে এক মসজিদের ইমামকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথা ও বুকে আঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই গ্রামের ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত ইমামের বাবা মো. ফুল মিয়া। আহত ইমাম মো. ফরহাদ ইসলাম সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ চরপাড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় একটি মারামারির ঘটনা মীমাংসার জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালে ফুল মিয়ার ভাতিজা মো. রজিব ও আহাদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ফুল মিয়ার বড় ছেলে ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মো. ফরহাদ ইসলাম হামলার শিকার হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মো. মোবারকের নির্দেশে মো. ফ্রেস আকন্দ বাঁশের লাঠি দিয়ে ফরহাদের মাথা ও বুকে আঘাত করেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে অন্য অভিযুক্তরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সোনাতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
আহত ইমামের বাবা ফুল মিয়ার অভিযোগ, ঘটনার পরও অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর বাড়ির আশপাশে মহড়া দিচ্ছেন এবং তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে পুনরায় মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। ছেলের চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে সময় লাগায় থানায় অভিযোগ দিতে বিলম্ব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লিখিত অভিযোগে মো. ফ্রেস আকন্দ, মো. মতিয়ার, মোছা. ববি বেগম, মো. মোবারক, মো. সাইদ ও মো. ইবেদ আলীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. রানা মিয়া, মো. পারভেজ মিয়া ও মো. ছাব্বিরসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও দক্ষিণ চরপাড়া ঈদগাহ মাঠের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম (টুরু) মণ্ডল এবং তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশে কর্মরত মোবারকের ছেলে জহুরুল ইসলামের প্রভাবকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সঙ্গে বারবার বিরোধ ও হামলার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের দাবি, ওই পুলিশ সদস্যের প্রভাবের কারণে তাঁরা থানায় গিয়েও ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে অভিযুক্তরা।
এ বিষয়ে সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
Reporter Name 
















