বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা (বগুড়া): ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে শুরু হওয়া শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাতে গিয়ে ভক্তদের মধ্যে দেখা যায় আবেগ ও বিষাদের আবহ। আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশায় শেষ হয় এবারের দুর্গোৎসব।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আড়িয়াঘাটে বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। পরে বাঙালি নদীতে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। নৌকায় করে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন শোভাযাত্রায় অংশ নেন পূজারি ও ভক্তরা। নদীর তীরে দেবীকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।
এ বছর সোনাতলা উপজেলায় ৫৩টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কয়েক দিনের পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আচার ও উৎসবমুখর পরিবেশের পর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
বিসর্জন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে আড়িয়াঘাট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। নদীতে বিসর্জনের সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও সতর্ক ছিলেন।
এদিকে সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক নৌকায় করে নদীতে ঘুরে বিসর্জন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঙালি নদীতে প্রায় ২০টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার কথা রয়েছে।
সোনাতলা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিকাশ স্বর্ণকার বলেন, গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সূচনা হয়। এবার উপজেলায় ৫৩টি মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপনের পর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হয়েছে।
সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ পর্ব প্রতিমা বিসর্জন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ঘাট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক সতর্ক ছিলেন।
দেবীর বিদায়ে মণ্ডপে মণ্ডপে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। উৎসবের আনন্দ শেষে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা—‘আসছে বছর আবার হবে’।
Reporter Name 

















