০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়

  • Reporter Name
  • ০১:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩২৭

স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায়। তিনি উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা। চার বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। সম্প্রতি ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরই তার মৃত্যুর খবর আসে। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কাজের প্রয়োজনে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় তার। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে শাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

নিহত শাহেদ আহম্মেদের বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা ছাহেরা বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। আর তার মা দুই মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলী ও তাদের দুই সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশির বাড়ি উপজেলার মাদলা গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি আরও জানান, নিহত শাহেদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মিশন কাজ করছে।

শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সারিয়াকান্দিতে খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়

০১:৩৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায়। তিনি উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা। চার বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। সম্প্রতি ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার পরই তার মৃত্যুর খবর আসে। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই কাজের প্রয়োজনে গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় তার। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যরা আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। বারবার ফোন করেও সাড়া না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মাধ্যমে শাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে শাজাহানপুর উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

নিহত শাহেদ আহম্মেদের বাবা রফিকুল ইসলাম ও মা ছাহেরা বেগম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। আর তার মা দুই মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। শাহেদের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলী ও তাদের দুই সন্তান বর্তমানে বাংলাদেশে রয়েছেন।

শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশির বাড়ি উপজেলার মাদলা গ্রামে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি আরও জানান, নিহত শাহেদের মরদেহ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একটি মিশন কাজ করছে।

শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা।