০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গাবতলীতে স্বামী অ্যাডভোকেট শিপনের বিরুদ্ধে স্ত্রী লিপির সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • ০৩:১৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫২

মুহাম্মাদ আবু মুসা: বগুড়ার গাবতলীতে তালাকের বিষয়টি গোপন রাখা এবং অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে স্বামী অ্যাডভোকেট শিপন আলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী মোছা. লিপি খাতুন। সোমবার (১২ অক্টোবর) গাবতলী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিপি খাতুন জানান, ২০২৪ সালের ১৩ জুন গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের তেলিহাটা গ্রামের ছাবেদুর রহমানের ছেলে অ্যাডভোকেট শিপন আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা প্রথমে বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। পরে শহরের ধাওয়াপাড়া এলাকায় বগুড়া কলেজের সামনে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

লিখিত বক্তব্যে লিপি খাতুন অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২৪ জানুয়ারি তেলিহাটা গ্রামে ঈশিতা নামের এক নারীর বাড়িতে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন তাঁর স্বামীকে আটক করেন। পরে ওই নারীকে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিপন আলীকে সুখানপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

লিপি খাতুন আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে সীমা নামের আরেক নারীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই নারী বগুড়া শহরের চেলোপাড়া কৃষি ফার্ম-সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি জানান।

তাঁর দাবি, অ্যাডভোকেট শিপন আলী তাঁকে ছয় মাস আগে তালাক দিয়েছেন বলে প্রচার করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং তালাকসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁর কাছে পাঠানো হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান লিপি খাতুন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাতেও শিপন আলী তাঁর বাসায় এসেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিপি খাতুন প্রশ্ন তুলে বলেন, তাঁকে ছয় মাস আগে তালাক দেওয়া হয়ে থাকলে এ বিষয়ে তাঁকে কেন কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি? এ বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিকার কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিপি খাতুন তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়ে আরও কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শিপন আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে তাঁর অবস্থানও তুলে ধরা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সারিয়াকান্দিতে খাদ্যপণ্যে অনিয়ম, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা

গাবতলীতে স্বামী অ্যাডভোকেট শিপনের বিরুদ্ধে স্ত্রী লিপির সংবাদ সম্মেলন

০৩:১৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মুহাম্মাদ আবু মুসা: বগুড়ার গাবতলীতে তালাকের বিষয়টি গোপন রাখা এবং অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে স্বামী অ্যাডভোকেট শিপন আলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্ত্রী মোছা. লিপি খাতুন। সোমবার (১২ অক্টোবর) গাবতলী প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও প্রতিকার দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লিপি খাতুন জানান, ২০২৪ সালের ১৩ জুন গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের তেলিহাটা গ্রামের ছাবেদুর রহমানের ছেলে অ্যাডভোকেট শিপন আলীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা প্রথমে বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। পরে শহরের ধাওয়াপাড়া এলাকায় বগুড়া কলেজের সামনে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন।

লিখিত বক্তব্যে লিপি খাতুন অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২৪ জানুয়ারি তেলিহাটা গ্রামে ঈশিতা নামের এক নারীর বাড়িতে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন তাঁর স্বামীকে আটক করেন। পরে ওই নারীকে সাত লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিপন আলীকে সুখানপুকুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

লিপি খাতুন আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে সীমা নামের আরেক নারীর সঙ্গে তাঁর স্বামীর সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই নারী বগুড়া শহরের চেলোপাড়া কৃষি ফার্ম-সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন বলে তিনি জানান।

তাঁর দাবি, অ্যাডভোকেট শিপন আলী তাঁকে ছয় মাস আগে তালাক দিয়েছেন বলে প্রচার করছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং তালাকসংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও তাঁর কাছে পাঠানো হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান লিপি খাতুন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাতেও শিপন আলী তাঁর বাসায় এসেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিপি খাতুন প্রশ্ন তুলে বলেন, তাঁকে ছয় মাস আগে তালাক দেওয়া হয়ে থাকলে এ বিষয়ে তাঁকে কেন কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি? এ বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিকার কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিপি খাতুন তাঁর দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয়ে আরও কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শিপন আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে তাঁর অবস্থানও তুলে ধরা প্রয়োজন।