শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:এক মাসের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন সৌদি আরবে। দেশটিতে পৌঁছে স্ত্রীকে ফোন করে নিজের নিরাপদে পৌঁছানোর খবরও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ফোনালাপই যে শেষ কথা হবে, তা ভাবেননি কেউ। সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান প্রবাসী শাহেদ আহম্মেদ আশিক (৩২)। দেশে ফেরার মাত্র ১৩ দিন পর তাঁর নিথর দেহ ফিরল কফিনবন্দী হয়ে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আশিকের মরদেহ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে আসার পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বাবার কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে তাঁর দুই ছেলে কাউছার (১১) ও আব্দুল্লাহ (৬)। এ সময় মরদেহ একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন।
নিহতের চাচাতো ভাই মাসুম রানার ভাষ্য অনুযায়ী, আশিকের বাবা মো. রফিকুল ইসলাম প্রায় ২০ বছর ধরে সৌদি আরবে থাকেন। জীবিকার সন্ধানে আশিকও দুই বছর আগে দেশটিতে পাড়ি জমান। এক মাসের ছুটি কাটিয়ে গত ৯ অক্টোবর তিনি আবার সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। পরদিন ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলি বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।
মাসুম রানা জানান, ফোনালাপের কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে আশিকসহ আরও এক বাংলাদেশি নিহত হন।
শুক্রবার আসরের নামাজের পর সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আশিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান জানান, মরদেহ দেশে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। নিহতের পরিবারকে সরকারি আর্থিক সহায়তা পাইয়ে দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
Reporter Name 















