০৯:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় করতোয়া নদীর একাংশে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে টিএমএসএসকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

  • Reporter Name
  • ০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩
  • ১৩৪

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর একাংশে মাটি ভরাট করে নদীর উপর রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে টিএমএসএস কে দশ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজা পারভীন এ জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তিন মাসের কারাদন্ড টিএমএসএসের এক কর্মকর্তা ভোগ করবেন বলেও জানান আদালত। এর আগে গত শনিবার (১৮ মার্চ) নদী ভরাটের অভিযোগ পেয়ে টিএমএসএসের ইকো পার্কে ইউএনও ফিরোজা পারভীন অভিযান চালান। পরে কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টিএমএসের নির্বাহী পরিচালক হোসনে-আরা বেগম। তিনি দাবি করেন, যে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে সেটি তার নিজের জায়গা। এর পরে হোসনে-আরা বেগমের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। টিএমএসএস যদি নদীর জমি ভরাট করে বা নদীর সীমানা অতিক্রম করে তাহলে দুই-পক্ষের সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ করা হবে। এতে অপরাধ প্রমাণ হলে সাজা মেনে নেওয়া হবে বলে মুচলেকায় লেখেন হোসনে-আরা।
এরপর সোমবার (২০ মার্চ) দুপুরে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি অফিস এবং টিএমএসএসের সার্ভেয়াররা একসাথে করতোয়া নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেন।
ইউএনও ফিরোজা পারভীন বলেন, ‘গত শনিবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও সেটি অমান্য করে কাজ চলমান রাখে টিএমএসএস। এখানে করতোয়া নদীর মূল প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। যেটি বলা হয়েছিল এই এলাকার মানুষ করেছে। তবে আমি সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা এটা করেননি এবং তারাও চায় না নদীর স্রোত বন্ধ হোক। তারা জানিয়েছে টিএমএসএসের নির্দেশে এই কাজ চলছে। এখানে এসে নদী ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১৫ ধারা অনুযায়ী টিএমএসএসকে দশ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা প্রদানে ব্যর্থ হলে টিএমএসএসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নজিবর রহমান তিনমাসের কারাভোগ করবেন।’
এদিকে টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেছেন, ‘নদীর উপর যে রাস্তা করা হয়েছে তা অস্থায়ী যা এই অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করেছেন। এর সাথে টিএমএসএসের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ফলে এই রায় টিএমএসএসের জন্য হতে পারে না। এজন্য ইউএনও মহোদয়কে রায় স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় করতোয়া নদীর একাংশে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে টিএমএসএসকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

০১:১৩:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সদর উপজেলার নওদাপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর একাংশে মাটি ভরাট করে নদীর উপর রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে টিএমএসএস কে দশ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজা পারভীন এ জরিমানার আদেশ দেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে তিন মাসের কারাদন্ড টিএমএসএসের এক কর্মকর্তা ভোগ করবেন বলেও জানান আদালত। এর আগে গত শনিবার (১৮ মার্চ) নদী ভরাটের অভিযোগ পেয়ে টিএমএসএসের ইকো পার্কে ইউএনও ফিরোজা পারভীন অভিযান চালান। পরে কাগজপত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টিএমএসের নির্বাহী পরিচালক হোসনে-আরা বেগম। তিনি দাবি করেন, যে জায়গা ভরাট করা হচ্ছে সেটি তার নিজের জায়গা। এর পরে হোসনে-আরা বেগমের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। টিএমএসএস যদি নদীর জমি ভরাট করে বা নদীর সীমানা অতিক্রম করে তাহলে দুই-পক্ষের সার্ভেয়ার দিয়ে জরিপ করা হবে। এতে অপরাধ প্রমাণ হলে সাজা মেনে নেওয়া হবে বলে মুচলেকায় লেখেন হোসনে-আরা।
এরপর সোমবার (২০ মার্চ) দুপুরে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড, ভূমি অফিস এবং টিএমএসএসের সার্ভেয়াররা একসাথে করতোয়া নদীর সীমানা চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেন।
ইউএনও ফিরোজা পারভীন বলেন, ‘গত শনিবার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিলেও সেটি অমান্য করে কাজ চলমান রাখে টিএমএসএস। এখানে করতোয়া নদীর মূল প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। যেটি বলা হয়েছিল এই এলাকার মানুষ করেছে। তবে আমি সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা এটা করেননি এবং তারাও চায় না নদীর স্রোত বন্ধ হোক। তারা জানিয়েছে টিএমএসএসের নির্দেশে এই কাজ চলছে। এখানে এসে নদী ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ১৫ ধারা অনুযায়ী টিএমএসএসকে দশ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা প্রদানে ব্যর্থ হলে টিএমএসএসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নজিবর রহমান তিনমাসের কারাভোগ করবেন।’
এদিকে টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেছেন, ‘নদীর উপর যে রাস্তা করা হয়েছে তা অস্থায়ী যা এই অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতের জন্য নির্মাণ করেছেন। এর সাথে টিএমএসএসের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ফলে এই রায় টিএমএসএসের জন্য হতে পারে না। এজন্য ইউএনও মহোদয়কে রায় স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।