০৬:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাহালুতে জামানতের বিনিময়ে চাকুরীঃ ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেনা টাচস্টোনের শ্রমিকরা

  • Reporter Name
  • ০৩:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩
  • ১৯৭

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলার শীতলাইয়ে অবস্থিত টাচস্টোন হোম ইলেকট্রনিক্স কোম্পানী। এই কোম্পানীতে ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক জিনিস উৎপাদন শুরু হয় কয়েক বছর আগে।
এই কোম্পানীর শ্রমিকদের দাবী তারা প্রায় সকলেই ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে একেকজন প্রায় ২ লাখ টাকা জামাত কোম্পানীকে দিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেছেন। চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই তাদেরকে ঠিকমত বেতন দেওয়া হয়না। বাধ্য হয়ে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে জামানতের টাকা ফেরত নিতে গেলেও বড় সমস্যায় পড়তে হয় শ্রমিকদের। অনেকে আবার দীর্ঘদিন ধর্ণা দিয়ে পাচ্ছেনা জামানতের টাকা ফেরত।
যারফলে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে বগুড়া-কাহালু সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন ওই কোম্পানীর সকল শ্রমিকরা। এসময় পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে কোম্পানীর ভিতর গিয়ে তাদের দাবী-দাওয়া তুলে ধরেন কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসানের কাছে। শ্রমিকের দাবী-দাওয়া শোনার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই কোম্পানীর কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করেন। আলোচনার পরে কোম্পানীর কর্মকর্তারা ওইদিনই মে মাসের বেতন, আগামী রবিবার ওভার টাইমের কয়েক মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদের ছুটির আগে ঈদ বোনাস পরিশোধের প্রতিশ্রæতি দেন।
এই প্রতিশ্রæতি পাওয়ার পরে কোম্পানী কতৃপক্ষকে বিশ্বাস করতে পারছেনা শ্রমিকরা। তারা জানান, এই কোম্পানীতে ১০০ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৯৫ জন শ্রমিক ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে চাকুরী নিলেও ঠিকমত কেউ বেতন পাচ্ছেনা।
এই কোম্পানীর মেশিন অপারেটার মোঃ শাহাদত হোসেন জানান, আমি এক বছর আগে দেড় লাখ টাকা জামানত দিয়ে চাকুরী নিয়েছি। অথচ কয়েক মাসের ওভার টাইমের বেতন, গত মে মাস ও চলতি মাসের বেতন এখনো আমাকে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও ঈদ বোনাসসহ বকেয়া বেতন আজ দিবে কাল দিবে এই বলে শুধু সময় ক্ষেপন করছে।
রিয়াজুল ইসলাম জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এই কোম্পানীতে চাকুরী নেন। অথচ কোম্পানী কতৃপক্ষ আমাদের মত প্রায় সকল শ্রমিককে ঠিকমত বেতন না দিয়ে একপ্রকার মানুষিকভাবে নির্যাতন করছেন। ইয়াছিন আলী জানান, আমি ৫০ হাজার ও আমার ছেলে ১ লাখ টাকা জামানত দিয়ে এই কোম্পানীতে চাকুরী নিয়েছি।
ঠিকমত বেতন না দেওয়ায় আমার ছেলে ইশতিয়াক আহম্মেদ চাকুরী ছেড়ে দিয়েছে। কিন্ত দিনের পর দিন হয়রানী হয়েও তার জামানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেনা। শ্রাবনী আকতার ও ফজলে রাব্বী এই দম্পতি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এই কোম্পানীতে চাকুরী নিয়ে ঠিকমত বেতন, ওভার টাইমের বকেয়া পারিশ্রমিক ও ঈদ বোনাস না পেয়ে মানুষিকভাবে খুবই কষ্টে আছেন।
টাচস্টোন হোম ইলেকট্রনিক কোম্পানী লিমিটেডের এডমিন শাহানাজ আফরিন জানান, আমরা খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সাথে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করবো। কোম্পানীর হিসাব রক্ষক অফিসার মোঃ রাফিউল আলম জানান, আমাদের কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ি জামানত নিয়ে চাকুরী দেওয়া হয়েছে।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান জানান, এই কোম্পানীর উদ্বোধনের পর থেকেই শ্রমিকদের এই সমস্যা। কোম্পানী কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে দ্রæত শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করার জন্য। মিল কতৃপক্ষ ও শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেউ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাসির আহম্মেদ মোবাইল ফোনে শ্রমিকদের কাছ থেকে জামানত নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তার দাবী কোন শ্রমিকের বেতন বাঁকী রাখা হয়নি। ঠিকমত ইনপোর্ট করতে না পারায় সাময়িক আর্থিক সমস্যা হতেই পারে। আর্থিক সমস্যার কারনে বেতন দিতে ২/১ দিন দেরী হলে এমন কি সমস্যা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কাহালুতে জামানতের বিনিময়ে চাকুরীঃ ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেনা টাচস্টোনের শ্রমিকরা

০৩:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জুন ২০২৩

কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার কাহালু উপজেলার শীতলাইয়ে অবস্থিত টাচস্টোন হোম ইলেকট্রনিক্স কোম্পানী। এই কোম্পানীতে ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক জিনিস উৎপাদন শুরু হয় কয়েক বছর আগে।
এই কোম্পানীর শ্রমিকদের দাবী তারা প্রায় সকলেই ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে একেকজন প্রায় ২ লাখ টাকা জামাত কোম্পানীকে দিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেছেন। চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই তাদেরকে ঠিকমত বেতন দেওয়া হয়না। বাধ্য হয়ে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে জামানতের টাকা ফেরত নিতে গেলেও বড় সমস্যায় পড়তে হয় শ্রমিকদের। অনেকে আবার দীর্ঘদিন ধর্ণা দিয়ে পাচ্ছেনা জামানতের টাকা ফেরত।
যারফলে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে বগুড়া-কাহালু সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন ওই কোম্পানীর সকল শ্রমিকরা। এসময় পুলিশের হস্তক্ষেপে শ্রমিকরা রাস্তা থেকে কোম্পানীর ভিতর গিয়ে তাদের দাবী-দাওয়া তুলে ধরেন কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসানের কাছে। শ্রমিকের দাবী-দাওয়া শোনার পর তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওই কোম্পানীর কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করেন। আলোচনার পরে কোম্পানীর কর্মকর্তারা ওইদিনই মে মাসের বেতন, আগামী রবিবার ওভার টাইমের কয়েক মাসের বকেয়া বেতন ও ঈদের ছুটির আগে ঈদ বোনাস পরিশোধের প্রতিশ্রæতি দেন।
এই প্রতিশ্রæতি পাওয়ার পরে কোম্পানী কতৃপক্ষকে বিশ্বাস করতে পারছেনা শ্রমিকরা। তারা জানান, এই কোম্পানীতে ১০০ জন শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৯৫ জন শ্রমিক ৫০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে চাকুরী নিলেও ঠিকমত কেউ বেতন পাচ্ছেনা।
এই কোম্পানীর মেশিন অপারেটার মোঃ শাহাদত হোসেন জানান, আমি এক বছর আগে দেড় লাখ টাকা জামানত দিয়ে চাকুরী নিয়েছি। অথচ কয়েক মাসের ওভার টাইমের বেতন, গত মে মাস ও চলতি মাসের বেতন এখনো আমাকে দেওয়া হয়নি। এছাড়াও ঈদ বোনাসসহ বকেয়া বেতন আজ দিবে কাল দিবে এই বলে শুধু সময় ক্ষেপন করছে।
রিয়াজুল ইসলাম জানান, তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এই কোম্পানীতে চাকুরী নেন। অথচ কোম্পানী কতৃপক্ষ আমাদের মত প্রায় সকল শ্রমিককে ঠিকমত বেতন না দিয়ে একপ্রকার মানুষিকভাবে নির্যাতন করছেন। ইয়াছিন আলী জানান, আমি ৫০ হাজার ও আমার ছেলে ১ লাখ টাকা জামানত দিয়ে এই কোম্পানীতে চাকুরী নিয়েছি।
ঠিকমত বেতন না দেওয়ায় আমার ছেলে ইশতিয়াক আহম্মেদ চাকুরী ছেড়ে দিয়েছে। কিন্ত দিনের পর দিন হয়রানী হয়েও তার জামানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেনা। শ্রাবনী আকতার ও ফজলে রাব্বী এই দম্পতি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে এই কোম্পানীতে চাকুরী নিয়ে ঠিকমত বেতন, ওভার টাইমের বকেয়া পারিশ্রমিক ও ঈদ বোনাস না পেয়ে মানুষিকভাবে খুবই কষ্টে আছেন।
টাচস্টোন হোম ইলেকট্রনিক কোম্পানী লিমিটেডের এডমিন শাহানাজ আফরিন জানান, আমরা খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের সাথে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করবো। কোম্পানীর হিসাব রক্ষক অফিসার মোঃ রাফিউল আলম জানান, আমাদের কোম্পানীর নিয়ম অনুযায়ি জামানত নিয়ে চাকুরী দেওয়া হয়েছে।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ মাহমুদ হাসান জানান, এই কোম্পানীর উদ্বোধনের পর থেকেই শ্রমিকদের এই সমস্যা। কোম্পানী কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে দ্রæত শ্রমিকদের সমস্যার সমাধান করার জন্য। মিল কতৃপক্ষ ও শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেউ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাসির আহম্মেদ মোবাইল ফোনে শ্রমিকদের কাছ থেকে জামানত নেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান। তার দাবী কোন শ্রমিকের বেতন বাঁকী রাখা হয়নি। ঠিকমত ইনপোর্ট করতে না পারায় সাময়িক আর্থিক সমস্যা হতেই পারে। আর্থিক সমস্যার কারনে বেতন দিতে ২/১ দিন দেরী হলে এমন কি সমস্যা হয়েছে।