১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটকঃ ঘাতক প্রবাসী স্বামী গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • ০৪:০৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০২৩
  • ২৯০

গোলাম রব্বানী শিপনঃ বগুড়ার সদরের গোকুল ইউনিয়নের বড়ধাওয়াকোলা গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যাকরে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে শেষ রক্ষা হলো না প্রবাসী ঘাতক স্বামী সাজ্জাতুল আরিফিনের। পুলিশ তাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত ৭/৮ বছর পূর্বে গাবতলী উপজেলার রামেশ্বপুর গ্রামে আব্দুল মান্নান মিয়ার কন্যা মাহমুদা আক্তার মারুফাকে বিয়ে করে বড় ধাওয়াকোলা গ্রামের শাহাবুদ্দিন মণ্ডলের পুত্র সাজ্জাতুল আরিফিন। বিয়ের পর তাদের পরিবারে ১টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। এদিকে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী ও কন্যাকে রেখে গত ৬ বছর ধরে ওমান দেশে পাড়ি জমান সাজ্জাতুল আরিফিন। সদ্য কয়েক মাসের ছুটিতে দেশে ফিরেছে প্রবাসী সাজ্জাতুল আরিফিন। সে দেশে এসে স্ত্রীকে পাঠানো টাকার জন্য চাপ ও পরকিয়া সন্দেহ সহ নানা কারনে অকারনে নির্যাতন করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিার ২০ জুলাই বিকেল ৩টায় স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মারুফা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ সংবাদ প্রচার করে নিজেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নাটকীয় ভাবে আহাজারি করে। আরও প্রচার করা হয় যে স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মারুফার মাথার সমস্যা। অনেক চিকিৎসা করেও তাকে সুস্থ করা যায়নি। এমন কি তার মাথার চিকিৎসা নেওয়া একাধিক সার্টিফিকেট ও প্রেসক্রিশন রয়েছে। পরে বগুড়া সদর থানায় খবর দিলে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফজলুল হক সহ সঙ্গীয় ফোর্স ধাওয়াকোলা মন্ডল পাড়া গ্রামে এসে বাড়ীর বারান্দায় রাখা অবস্থায় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে সুরুতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান মেয়ের মৃত্যু নিয়ে কাউকে প্রাথমিক ভাবে তিনি সন্দেহ করেননি। তাই বগুড়া সদর থানার ১টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এ মৃত্যুর সন্দেহ নিয়ে সদর থানা পুলিশ টিম গোপনে তদন্ত করেন। ময়না তদন্তকারি চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে পুলিশ মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হোন। এরপর পুলিশ নিহত মাহমুদা মারুফার স্বামী সাজ্জাতুল আরিফিনের ওপর সন্দেহের তীর ছোড়েন। একপর্যায়ে মৃত্যু নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে মারুফার বাবা আব্দুল মান্নান জামাই আরেফিনের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ করেন। তিনি নিশ্চিত হন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারই ঘাতক জামাই সাজ্জাতুল আরেফিন। মেয়ে হত্যার ঘটনায় আব্দুল মান্নান বাদি হয়ে ঘাতক জামাই সাজ্জাতুল আরিফিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া সদর থানার একদল পুলিশ সদরের গোকুল ছ’মিল বন্দর থেকে আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন (৩৩) কে গ্রেফতার করে। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আরিফিন স্ত্রী মারুফাকে হত্যার দায় স্বীকার করে বগুড়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহার আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

 

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়ায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটকঃ ঘাতক প্রবাসী স্বামী গ্রেফতার

০৪:০৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ জুলাই ২০২৩

গোলাম রব্বানী শিপনঃ বগুড়ার সদরের গোকুল ইউনিয়নের বড়ধাওয়াকোলা গ্রামে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যাকরে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে শেষ রক্ষা হলো না প্রবাসী ঘাতক স্বামী সাজ্জাতুল আরিফিনের। পুলিশ তাকে আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত ৭/৮ বছর পূর্বে গাবতলী উপজেলার রামেশ্বপুর গ্রামে আব্দুল মান্নান মিয়ার কন্যা মাহমুদা আক্তার মারুফাকে বিয়ে করে বড় ধাওয়াকোলা গ্রামের শাহাবুদ্দিন মণ্ডলের পুত্র সাজ্জাতুল আরিফিন। বিয়ের পর তাদের পরিবারে ১টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেন। এদিকে জীবিকার তাগিদে স্ত্রী ও কন্যাকে রেখে গত ৬ বছর ধরে ওমান দেশে পাড়ি জমান সাজ্জাতুল আরিফিন। সদ্য কয়েক মাসের ছুটিতে দেশে ফিরেছে প্রবাসী সাজ্জাতুল আরিফিন। সে দেশে এসে স্ত্রীকে পাঠানো টাকার জন্য চাপ ও পরকিয়া সন্দেহ সহ নানা কারনে অকারনে নির্যাতন করতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিার ২০ জুলাই বিকেল ৩টায় স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মারুফা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ সংবাদ প্রচার করে নিজেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নাটকীয় ভাবে আহাজারি করে। আরও প্রচার করা হয় যে স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মারুফার মাথার সমস্যা। অনেক চিকিৎসা করেও তাকে সুস্থ করা যায়নি। এমন কি তার মাথার চিকিৎসা নেওয়া একাধিক সার্টিফিকেট ও প্রেসক্রিশন রয়েছে। পরে বগুড়া সদর থানায় খবর দিলে সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফজলুল হক সহ সঙ্গীয় ফোর্স ধাওয়াকোলা মন্ডল পাড়া গ্রামে এসে বাড়ীর বারান্দায় রাখা অবস্থায় ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে সুরুতহাল প্রতিবেদন তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল মান্নান মেয়ের মৃত্যু নিয়ে কাউকে প্রাথমিক ভাবে তিনি সন্দেহ করেননি। তাই বগুড়া সদর থানার ১টি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।
এদিকে এ মৃত্যুর সন্দেহ নিয়ে সদর থানা পুলিশ টিম গোপনে তদন্ত করেন। ময়না তদন্তকারি চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে পুলিশ মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হোন। এরপর পুলিশ নিহত মাহমুদা মারুফার স্বামী সাজ্জাতুল আরিফিনের ওপর সন্দেহের তীর ছোড়েন। একপর্যায়ে মৃত্যু নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পরে মারুফার বাবা আব্দুল মান্নান জামাই আরেফিনের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ করেন। তিনি নিশ্চিত হন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারই ঘাতক জামাই সাজ্জাতুল আরেফিন। মেয়ে হত্যার ঘটনায় আব্দুল মান্নান বাদি হয়ে ঘাতক জামাই সাজ্জাতুল আরিফিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এরপর গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে বগুড়া সদর থানার একদল পুলিশ সদরের গোকুল ছ’মিল বন্দর থেকে আসামি সাজ্জাতুল আরিফিন (৩৩) কে গ্রেফতার করে। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে আরিফিন স্ত্রী মারুফাকে হত্যার দায় স্বীকার করে বগুড়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুকান্ত সাহার আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।