১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাবতলীতে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলাঃ ইউপি সদস্যসহ ২জন গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • ০২:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
  • ১৭৪

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু (১৩)কে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মুন্নু মিয়া ধর্ষক বাবলু (৬০) এর কাছ থেকে ১লাখ ২০হাজার টাকা নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ৪জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার প্রেক্ষিতে গত সোমবার রাত ৯টায় থানা পুলিশ ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসাকারী মুন্নু মেম্বার ও সহযোগী আরিফুর রহমান (৪৫)সহ ২জনকে গ্রেফতার করে গতকাল মঙ্গলবার জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে ধর্ষক বাবলু ও আলম আকন্দ পলাতক রয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত ২২জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের নেপালতলী উত্তরপাড়া গ্রামের ভোলা প্রামানিকের ঘর জামাই বাবলু মন্ডল (৬০) একই গ্রামের জনৈক এক ব্যক্তির বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে বাড়ীর নিকটে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার দিন রাতেই নেপালতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে মুন্নু মিয়া ও তার সহযোগী নেপালতলী তেরোপাখি গ্রামের মোঃ টুকু মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান (৪৫)সহ ৪জন এবং ওই গ্রামের কতিপয় লোকজনকে নিয়ে ঘটনাটি মিমাংসার জন্য বৈঠক বসে। মুন্নু মেম্বার ওই ধর্ষনের ঘটনা মিমাংসার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেখানে ধর্ষক বাবলুকে ধর্ষণের ঘটনা থেকে রক্ষা করতে ধর্ষক বাবলুর মেয়ের ১লাখ ৫০হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাড় গরু মাত্র ১লাখ ২০হাজার টাকায় বিক্রি করে। সেই টাকা থেকে ভিকটিমের বাবাকে ৭০হাজার টাকায় দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা মুন্নু মেম্বার ও সহযোগীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এতে মেয়ের বাবা ও মা ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার বিষয়টি গাবতলী মডেল থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকারকে জানালে থানা পুলিশ সোমবার রাত ৯টায় মুন্নু মেম্বার ও সহযোগী আরিফুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ধর্ষককে সহযোগিতা করার অভিযোগে এনে ধর্ষকসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ধর্ষক বাবলু প্রাং ও ৩নং আসামী নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত আলতাব আকন্দের ছেলে থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আলম আকন্দ পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি ধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসাকারী ইউপি সদস্য মুন্নু মেম্বার ও সহযোগী আরিফুর রহমানসহ ২জন গ্রেফতার রয়েছে। অন্য আসামীদেরকে গ্রেতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত ইউপি সদস্য মুন্নু ও আরিফুরকে গতকাল জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৯

গাবতলীতে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলাঃ ইউপি সদস্যসহ ২জন গ্রেফতার

০২:৩৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু (১৩)কে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মুন্নু মিয়া ধর্ষক বাবলু (৬০) এর কাছ থেকে ১লাখ ২০হাজার টাকা নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার ভিকটিমের মা বাদী হয়ে ৪জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করেছে। মামলার প্রেক্ষিতে গত সোমবার রাত ৯টায় থানা পুলিশ ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসাকারী মুন্নু মেম্বার ও সহযোগী আরিফুর রহমান (৪৫)সহ ২জনকে গ্রেফতার করে গতকাল মঙ্গলবার জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে ধর্ষক বাবলু ও আলম আকন্দ পলাতক রয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, গত ২২জুলাই সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের নেপালতলী উত্তরপাড়া গ্রামের ভোলা প্রামানিকের ঘর জামাই বাবলু মন্ডল (৬০) একই গ্রামের জনৈক এক ব্যক্তির বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশু কন্যাকে ফুসলিয়ে বাড়ীর নিকটে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার দিন রাতেই নেপালতলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে মুন্নু মিয়া ও তার সহযোগী নেপালতলী তেরোপাখি গ্রামের মোঃ টুকু মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান (৪৫)সহ ৪জন এবং ওই গ্রামের কতিপয় লোকজনকে নিয়ে ঘটনাটি মিমাংসার জন্য বৈঠক বসে। মুন্নু মেম্বার ওই ধর্ষনের ঘটনা মিমাংসার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সেখানে ধর্ষক বাবলুকে ধর্ষণের ঘটনা থেকে রক্ষা করতে ধর্ষক বাবলুর মেয়ের ১লাখ ৫০হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাড় গরু মাত্র ১লাখ ২০হাজার টাকায় বিক্রি করে। সেই টাকা থেকে ভিকটিমের বাবাকে ৭০হাজার টাকায় দেয় এবং ৫০ হাজার টাকা মুন্নু মেম্বার ও সহযোগীরা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। এতে মেয়ের বাবা ও মা ক্ষুব্ধ হয়ে গত সোমবার বিষয়টি গাবতলী মডেল থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকারকে জানালে থানা পুলিশ সোমবার রাত ৯টায় মুন্নু মেম্বার ও সহযোগী আরিফুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ধর্ষককে সহযোগিতা করার অভিযোগে এনে ধর্ষকসহ ৪জনের বিরুদ্ধে মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে। বর্তমানে ধর্ষক বাবলু প্রাং ও ৩নং আসামী নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত আলতাব আকন্দের ছেলে থানা শ্রমিক দলের সভাপতি আলম আকন্দ পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে থানার ওসি সনাতন চন্দ্র সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি ধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা মিমাংসাকারী ইউপি সদস্য মুন্নু মেম্বার ও সহযোগী আরিফুর রহমানসহ ২জন গ্রেফতার রয়েছে। অন্য আসামীদেরকে গ্রেতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত ইউপি সদস্য মুন্নু ও আরিফুরকে গতকাল জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।