১১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়া ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে আগুনঃ পুড়ে গেছে নথিপত্র

  • Reporter Name
  • ০২:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩
  • ২৫৩

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) আগুন লেগে পুরাতন বেশ কিছু নথিপত্র পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ২০০০ সালের বিভিন্ন থানায় করা মামলার নথি এবং ভূমি সংক্রান্ত কিছু খতিয়ান (মাঠ পরচা) রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে আগুনে ঠিক কতগুলো নথি পুড়ে গেছে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেন নি।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি রেভিনিউ) এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) নেতৃত্বে দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এডিসি রেভিনিউয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত নথির তালিকা করবে এবং এডিএমের নেতৃত্বে গঠিত অপর কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত অর্থাৎ অগ্নিকান্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং পুরাতন রেকর্ড রুমটি ব্যবহার যোগ্য কিনা সেটি খতিয়ে দেখবেন।
বগুড়া ডিসি অফিসের কর্মচারীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নিচতলার উত্তর দিকে রেকর্ড রুমের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। এরপর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক মো. মঞ্জিল হক বলেন, রেকর্ড রুমের দরজার ওপরে চিলে কোঠায় রাখা নথিপত্রে আগুন লেগেছিল। তবে সেই আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলা হয়। আগুনে খুব বেশি নথি পোড়েনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এডিসি রেভিনিউ নিলুফা ইয়াসমিন জানান, যেখানে আগুন লেগেছিল সেখানে ২০-২২ বছর আগে আদালত থেকে নিষ্পত্তি করা কিছু মামলার নথি ও ভূমি সংক্রান্ত কিছু খতিয়ান রাখা ছিল। আগুনে অল্প কয়েকটি নথির সামান্য পুড়লেও অধিকাংশই অক্ষত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অগ্নিকান্ডে কতগুলো নথি পুড়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটির তালিকা করার জন্য এডিসি রেভিনিউ নিলুফা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে এডিএম মোছা. আফসানা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অগ্নিকান্ডের কারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে করণীয় নির্ধারণ এবং পুরাতন রেকর্ড রুম ব্যবহার যোগ্য কিনা তা খতিয়ে দেখবে। তিনি বলেন, এডিএমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বগুড়া ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে আগুনঃ পুড়ে গেছে নথিপত্র

০২:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ অগাস্ট ২০২৩

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় ডিসি অফিসের রেকর্ড রুমে মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) আগুন লেগে পুরাতন বেশ কিছু নথিপত্র পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ২০০০ সালের বিভিন্ন থানায় করা মামলার নথি এবং ভূমি সংক্রান্ত কিছু খতিয়ান (মাঠ পরচা) রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। তবে আগুনে ঠিক কতগুলো নথি পুড়ে গেছে সে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেন নি।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি রেভিনিউ) এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) নেতৃত্বে দু’টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এডিসি রেভিনিউয়ের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত নথির তালিকা করবে এবং এডিএমের নেতৃত্বে গঠিত অপর কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত অর্থাৎ অগ্নিকান্ডের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং পুরাতন রেকর্ড রুমটি ব্যবহার যোগ্য কিনা সেটি খতিয়ে দেখবেন।
বগুড়া ডিসি অফিসের কর্মচারীরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে নিচতলার উত্তর দিকে রেকর্ড রুমের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। এরপর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারি পরিচালক মো. মঞ্জিল হক বলেন, রেকর্ড রুমের দরজার ওপরে চিলে কোঠায় রাখা নথিপত্রে আগুন লেগেছিল। তবে সেই আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিভিয়ে ফেলা হয়। আগুনে খুব বেশি নথি পোড়েনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
রেকর্ড রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এডিসি রেভিনিউ নিলুফা ইয়াসমিন জানান, যেখানে আগুন লেগেছিল সেখানে ২০-২২ বছর আগে আদালত থেকে নিষ্পত্তি করা কিছু মামলার নথি ও ভূমি সংক্রান্ত কিছু খতিয়ান রাখা ছিল। আগুনে অল্প কয়েকটি নথির সামান্য পুড়লেও অধিকাংশই অক্ষত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অগ্নিকান্ডে কতগুলো নথি পুড়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটির তালিকা করার জন্য এডিসি রেভিনিউ নিলুফা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তালিকা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে এডিএম মোছা. আফসানা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি অগ্নিকান্ডের কারণ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধকল্পে করণীয় নির্ধারণ এবং পুরাতন রেকর্ড রুম ব্যবহার যোগ্য কিনা তা খতিয়ে দেখবে। তিনি বলেন, এডিএমের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং গণপূর্ত বিভাগের প্রতিনিধিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।