১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাবতলীতে ছুড়িকাঘাতে অটোচালক খুনঃ ৩ নারী আটক

  • Reporter Name
  • ০৩:২০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ৬৭২

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুড়িকাঘাতে শাওন মিয়া (২৩) নামের এক অটোচালককে খুন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাড়–য়ামালা ইউনিয়নের হামিদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন ওই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে। ঘটনার পরপরই হত্যাকারী পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা হত্যাকারীর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে।
স্থানীয় একাধিকসূত্র জানান, গাবতলীর নাড়–য়ামালা ইউনিয়নের হামিদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আমজাদ মন্ডলের (৫৫) সঙ্গে পারিবারিক বিরোধে প্রতিবেশী মিঠু মন্ডলের স্ত্রী কমেলা বেগম (৪৫) এর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আমজাদ মন্ডল, তার স্ত্রী ও দুই কন্যা কমেলাকে গালাগালি এবং মারমুখী হয়ে ওঠে। তখন কমেলা নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে। এ সময় গাবতলী থেকে দোয়ারপাড়া সড়কে শাওন মন্ডল অটোরিক্সা চালাচ্ছিল। বাড়ীতে ঝগড়ার সংবাদ পেয়ে কমেলার ছেলে অটোরিক্সা চালক শাওন বাড়ীতে যায়। এরপর মাকে গালাগালি ও মারমূখী হওয়ার কারণ জানতে আমজাদ মন্ডলের বাড়ীর সামনে গিয়ে শাওন কারণ জিজ্ঞাসা করে। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ীর ভিতর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে স্ত্রী-কন্যার সামনেই শাওনের বাম পাজরে ঢুকিয়ে দেয় আমজাদ। তখন চিৎকার দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শাওন মাটিতে লটিয়ে পড়ে। শাওনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুত্বর আহত অবস্থায় গাবতলী হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনার পরেই আমজাদ পালিয়ে যায়। তবে এলাকাবাসী হত্যাকারীর স্ত্রী ফাতেমা (৪৪) এবং দুই মেয়ে রাজিয়া (২২) ও সুন্দরী (১৯)কে আটক করলে মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ী থেকে তাদেরকে থানা হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ শাওনের লাশ গাবতলী হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এদিকে উত্তেজিত জনতা হত্যাকারীর বাড়ীঘর আগুনে জালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে থানা পুলিশ তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এরপর থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শাওনের ৬মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। যার ভবিষৎ নিয়ে উৎকন্ঠা বিরাজ করছে গ্রামবাসীর মাঝে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। এ ব্যাপারে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

ধুনটে মসজিদের জায়গা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৯

গাবতলীতে ছুড়িকাঘাতে অটোচালক খুনঃ ৩ নারী আটক

০৩:২০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার গাবতলীতে পারিবারিক ঝগড়ার জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুড়িকাঘাতে শাওন মিয়া (২৩) নামের এক অটোচালককে খুন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার নাড়–য়ামালা ইউনিয়নের হামিদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাওন ওই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে। ঘটনার পরপরই হত্যাকারী পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা হত্যাকারীর স্ত্রী ও দুই মেয়েকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে।
স্থানীয় একাধিকসূত্র জানান, গাবতলীর নাড়–য়ামালা ইউনিয়নের হামিদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আমজাদ মন্ডলের (৫৫) সঙ্গে পারিবারিক বিরোধে প্রতিবেশী মিঠু মন্ডলের স্ত্রী কমেলা বেগম (৪৫) এর ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আমজাদ মন্ডল, তার স্ত্রী ও দুই কন্যা কমেলাকে গালাগালি এবং মারমুখী হয়ে ওঠে। তখন কমেলা নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে। এ সময় গাবতলী থেকে দোয়ারপাড়া সড়কে শাওন মন্ডল অটোরিক্সা চালাচ্ছিল। বাড়ীতে ঝগড়ার সংবাদ পেয়ে কমেলার ছেলে অটোরিক্সা চালক শাওন বাড়ীতে যায়। এরপর মাকে গালাগালি ও মারমূখী হওয়ার কারণ জানতে আমজাদ মন্ডলের বাড়ীর সামনে গিয়ে শাওন কারণ জিজ্ঞাসা করে। তারপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ীর ভিতর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে এসে স্ত্রী-কন্যার সামনেই শাওনের বাম পাজরে ঢুকিয়ে দেয় আমজাদ। তখন চিৎকার দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শাওন মাটিতে লটিয়ে পড়ে। শাওনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুত্বর আহত অবস্থায় গাবতলী হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ঘটনার পরেই আমজাদ পালিয়ে যায়। তবে এলাকাবাসী হত্যাকারীর স্ত্রী ফাতেমা (৪৪) এবং দুই মেয়ে রাজিয়া (২২) ও সুন্দরী (১৯)কে আটক করলে মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ী থেকে তাদেরকে থানা হেফাজতে নিয়েছে। পুলিশ শাওনের লাশ গাবতলী হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এদিকে উত্তেজিত জনতা হত্যাকারীর বাড়ীঘর আগুনে জালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে থানা পুলিশ তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। এরপর থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার এবং এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শাওনের ৬মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। যার ভবিষৎ নিয়ে উৎকন্ঠা বিরাজ করছে গ্রামবাসীর মাঝে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। এ ব্যাপারে থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।