০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

সারিয়াকান্দিতে ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ল তিন বাড়ি ও ৩০ লাখ টাকার সম্পদ

  • Reporter Name
  • ০৩:০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩০

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একটি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের তিনটি বসতবাড়িতে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি তেল, অটোরিকশার ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোরগাছা মধ্যপাড়া গ্রামের আলো ফিলিং স্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে আগুন লাগার পর দাহ্য পদার্থের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন পাশের তিনটি বসতবাড়িতে পৌঁছে যায়। এতে জোরগাছা গ্রামের নাসিম মিয়া, তাঁর মা এবং মান্নান মিয়ার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে সারিয়াকান্দি, গাবতলী ও বগুড়া জেলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ফিলিং স্টেশনে মজুত থাকা তিন হাজার লিটার পেট্রল, ৪০০ লিটার অকটেন ও চার হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া বিক্রির জন্য রাখা পাঁচটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ৫৫টি অটোরিকশার ব্যাটারি, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ফিলিং স্টেশনসহ তিনটি বসতবাড়িতে ৩০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

আলো ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মহিদুল ইসলাম বলেন, আগুনে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মজুত করা তেল ও ব্যারেল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি বিক্রির জন্য রাখা অটোরিকশার ব্যাটারিগুলোও পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সারিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার লিডার সুজন মিয়া বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, গামলা থেকে বোতলে তেল ভরানোর সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ফোম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা আরও ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে তিনটি ইউনিট একযোগে কাজ করে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশন ও তিনটি বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

সোনাতলায় মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে গিয়ে সম্মাননা জানাল আলোর প্রদীপ যুব সংগঠন

সারিয়াকান্দিতে ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ আগুন, পুড়ল তিন বাড়ি ও ৩০ লাখ টাকার সম্পদ

০৩:০৭:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে একটি ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের তিনটি বসতবাড়িতে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি তেল, অটোরিকশার ব্যাটারিসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোরগাছা মধ্যপাড়া গ্রামের আলো ফিলিং স্টেশনে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিলিং স্টেশনে আগুন লাগার পর দাহ্য পদার্থের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আগুন পাশের তিনটি বসতবাড়িতে পৌঁছে যায়। এতে জোরগাছা গ্রামের নাসিম মিয়া, তাঁর মা এবং মান্নান মিয়ার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

খবর পেয়ে সারিয়াকান্দি, গাবতলী ও বগুড়া জেলা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ফিলিং স্টেশনে মজুত থাকা তিন হাজার লিটার পেট্রল, ৪০০ লিটার অকটেন ও চার হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া বিক্রির জন্য রাখা পাঁচটি নতুন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ৫৫টি অটোরিকশার ব্যাটারি, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ফিলিং স্টেশনসহ তিনটি বসতবাড়িতে ৩০ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

আলো ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মহিদুল ইসলাম বলেন, আগুনে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মজুত করা তেল ও ব্যারেল পুড়ে নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি বিক্রির জন্য রাখা অটোরিকশার ব্যাটারিগুলোও পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সারিয়াকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার লিডার সুজন মিয়া বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, গামলা থেকে বোতলে তেল ভরানোর সময় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে ফোম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা আরও ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে তিনটি ইউনিট একযোগে কাজ করে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশন ও তিনটি বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত তদন্তের তথ্য পাওয়া গেলে তা জানা যাবে।