সোনাতলা সংবাদ ডেস্কঃ বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েই চলেছে। পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে এ ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। পুলিশ শক্ত হাতে দমন করতে পারছে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ মাসে বগুড়ায় পুলিশের ওপর ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ৪ অক্টোবর রাতে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌর এলাকার চক ভোলাখাঁর মহল্লায় আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ওইদিন ১৬ মামলার আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান রিজ্জাকুল ইসলাম রাজুকে গ্রেপ্তার করে থানার নেওয়ার সময় এলাকার পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে রাজুকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২১ জুলাই শেরপুর থানার শেরুয়া বটতলা এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এতে থানার চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে শুধু ওই নেতার ছেলে।
জানা গেছে, বগুড়ায় একের পর এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও জেলা পুলিশের সদস্যরা কোথাও লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল বা রাবার বুলেট চালানোর মতো বলপ্রয়োগ করেননি। এ জেলায় নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও গত বছরের ৫ আগস্টের পর পুলিশ শক্ত হাতে দমন করতে পারছে না। ফলে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২ বার। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩৯ জন পুলিশ সদস্য।
জেলা পুলিশের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বলপ্রয়োগ এড়িয়ে যাচ্ছেন, যাতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু পুলিশের এ সংযমকে দুর্বলতা ভেবে দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিচ্ছে। তাদের ভাষায়, অপরাধীরা শুধু নিজেদের কার্যক্রম চালাচ্ছে না, বরং সরাসরি পুলিশের ওপর হামলাও চালাচ্ছে। ফলে জেলার অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। পুলিশের দাবি, এত বড় সংখ্যায় পুলিশ আহত হওয়ার নজির গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনেও দেখা যায়নি।
জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৪ মাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মোট ১২টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৬৩ জন, পলাতক এজাহারভুক্ত আসামি ৩৯ জন। এ মামলাগুলোয় ১০১ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ছয় শতাধিক।
সুশাসনের জন্য প্রচার অভিযানের (সুপ্র) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কে জি এম ফারুক বলেন, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে, যা কোনোকালেই ছিল না। অসৎ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে দুর্বৃত্তদের যোগসাজশ এখনো রয়েছে। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা দুর্বৃত্তদের পুলিশ ভয় পাচ্ছে। আর এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা হামলা চালাচ্ছে। পুলিশকে কঠোর হতে হবে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ। যে কারণে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক। পুলিশের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় কাউকে না কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
Reporter Name 



















