০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়ায় সমাজসেবক সোহেলের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, ৬০ জনের ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা

  • Reporter Name
  • ০১:০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৭

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ গোলাম ফারুক সোহেল। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেয়েছেন শত শত মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রায় ৬০ জন অসহায় নারী-পুরুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যয় বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া মহানগরের শিববাটি ব্রিজসংলগ্ন উপমা ফার্মেসি এলাকায় একটি চক্ষুসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত গাক চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে চার শতাধিক নারী-পুরুষের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৬০ জন অসহায় রোগীর বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

আলহাজ গোলাম ফারুক সোহেল উপমা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নাগরিকদের জন্য আমরা’-এর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে গাক চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় তিনি অসহায় মানুষের চোখের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।

সোহেল জানান, দরিদ্র মানুষের চোখের চিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই কঠিন। এ কারণে সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চান। এ কাজে গাক চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের একমাত্র মেয়ে নুজাইমা বিনতে ফারুক উপমাকে ঘিরেও রয়েছে তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা। উপমা বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় সেও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোলাম ফারুক সোহেল, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার কংকন, মেয়ে নুজাইমা বিনতে ফারুক উপমা, গাক চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রায়হান রাব্বী ও সহকারী সিহাব আহম্মেদ, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিকের বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন ইসলাম তুহিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চপল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নাগরিকদের জন্য আমরা’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু মুসা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার, কোষাধ্যক্ষ ও পরিবেশবাদী নেতা ফজলুল হক বাবলু, সমাজসেবক আবু সাদাত মো. সায়েম রবি, মীর আবুল কালাম আজাদ তাজু, দিলরুবা ইয়াছমিন, চান মিয়া, সুজন, শাহীনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে হুমায়ন ইসলাম তুহিন ক্যাম্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোলাম ফারুক সোহেলের আর্থিক সহযোগিতায় গাক চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার রোগী চক্ষুসেবা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে চার শতাধিক নারী-পুরুষের ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে এমন উদ্যোগ অনেক দরিদ্র পরিবারের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

আদমদীঘিতে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন গ্রেপ্তার

বগুড়ায় সমাজসেবক সোহেলের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা, ৬০ জনের ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা

০১:০৩:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ গোলাম ফারুক সোহেল। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেয়েছেন শত শত মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রায় ৬০ জন অসহায় নারী-পুরুষের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যয় বহনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বগুড়া মহানগরের শিববাটি ব্রিজসংলগ্ন উপমা ফার্মেসি এলাকায় একটি চক্ষুসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ার বনানীতে অবস্থিত গাক চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে চার শতাধিক নারী-পুরুষের চোখ পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৬০ জন অসহায় রোগীর বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।

আলহাজ গোলাম ফারুক সোহেল উপমা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নাগরিকদের জন্য আমরা’-এর উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে গাক চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় তিনি অসহায় মানুষের চোখের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।

সোহেল জানান, দরিদ্র মানুষের চোখের চিকিৎসা ও ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই কঠিন। এ কারণে সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তিনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চান। এ কাজে গাক চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের একমাত্র মেয়ে নুজাইমা বিনতে ফারুক উপমাকে ঘিরেও রয়েছে তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা। উপমা বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবার মানবিক কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বড় হয়ে মানুষের সেবা করতে চায় সেও।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গোলাম ফারুক সোহেল, তাঁর স্ত্রী কামরুন নাহার কংকন, মেয়ে নুজাইমা বিনতে ফারুক উপমা, গাক চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রায়হান রাব্বী ও সহকারী সিহাব আহম্মেদ, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিকের বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন ইসলাম তুহিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান চপল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নাগরিকদের জন্য আমরা’-এর সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ আবু মুসা, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার, কোষাধ্যক্ষ ও পরিবেশবাদী নেতা ফজলুল হক বাবলু, সমাজসেবক আবু সাদাত মো. সায়েম রবি, মীর আবুল কালাম আজাদ তাজু, দিলরুবা ইয়াছমিন, চান মিয়া, সুজন, শাহীনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে হুমায়ন ইসলাম তুহিন ক্যাম্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোলাম ফারুক সোহেলের আর্থিক সহযোগিতায় গাক চক্ষু হাসপাতালের মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার রোগী চক্ষুসেবা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে চার শতাধিক নারী-পুরুষের ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করবে। দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে এমন উদ্যোগ অনেক দরিদ্র পরিবারের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাতে পারে।