স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ার সোনাতলায় জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জেরে মো. জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন মো. খলিলুর রহমান। জাকিরুলের বক্তব্যকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করে তিনি জমির কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমিতে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাসের জন্য প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) জাকিরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান এসব কথা বলেন। তিনি সোনাতলা উপজেলার কামালের পাড়ার বাসিন্দা।
খলিলুর রহমানের দাবি, ১৯৯৭ সালে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে গড়ফতেপুর মৌজায় মৃত জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে তিনি ও তাঁর বড় ভাই হাবিবুর রহমান মোট ১০ শতাংশ জমি কেনেন। জমি বুঝে পাওয়ার পর তাঁরা সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও মাটি ভরাট করে ভোগদখল শুরু করেন।
তিনি জানান, জমিটির আরএস রেকর্ড ও চূড়ান্ত খতিয়ান তাঁদের দুই ভাইয়ের নামে প্রকাশিত হয়েছে। জমিটির আরএস খতিয়ান নম্বর ৭৯০, দাগ নম্বর ৮৫ এবং সিএস দাগ নম্বর ৩০৪। পরবর্তীতে জমিটি তাঁদের নামে নামজারিও করা হয়। তাঁর দাবি, প্রায় ২৮ বছর ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।
খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী বিক্রি করা জমির মালিকানা দাবি করে বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং এ নিয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। বাড়িঘর নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে জমির গাছপালা কেটে জায়গাটি পরিষ্কার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, জাকিরুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সোনাতলা থানা পুলিশ গত ১০ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করে। নির্ধারিত দিনে তিনি জমির দলিল, রেকর্ড, খাজনা ও হালনাগাদ অনলাইন খাজনার রসিদ উপস্থাপন করেন। তবে তাঁর দাবি, ওই দিন অপর পক্ষের কেউ জমির কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ সময় উভয় পক্ষের ২০ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
খলিলুর রহমানের অভিযোগ, মো. জাকিরুল ইসলাম, মো. রাশেদ মিয়া ও মো. বাবলা মিয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় তিনি সোনাতলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ১৭৪৮; তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষের জমিসংক্রান্ত কাগজপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য থানা থেকে এক মাস পরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া খলিলুর রহমান দাবি করেন, জাকিরুল ইসলাম তাঁদের রেকর্ডভুক্ত ৭৯০ নম্বর খতিয়ানের জমির বিপরীতে জাল দলিলের মাধ্যমে ১২৪৬ নম্বর খারিজি খতিয়ান তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর তাঁরা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। পরে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই খারিজি খতিয়ান বাতিল করেন বলে দাবি করেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জমির মালিকানা ও ভোগদখলসংক্রান্ত বিরোধের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি চান তাঁরা। জমির কাগজপত্র যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাঁরা সেখানে বাড়িঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে খলিলুর রহমান সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, রেকর্ড ও অন্যান্য কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
Reporter Name 


















