০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা আগামী ১৫ফেব্রুয়ারীঃ নানা আয়োজনের প্রস্তুতি

  • Reporter Name
  • ০২:৫৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৩
  • ১৭২

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য আগামী ১৫ফেব্রæয়ারী/২৩ ও ২ফাল্গুন/১৪২৯ বুধবার পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে মেলা আয়োজকরা অত্যান্ত ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। স্বজনদের আপ্যায়ন করতে মেলার আশপাশের গ্রামের অনেক বাড়ীতে ধুম পড়ে গেছে নানা আয়োজনে। উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের অর্ন্তগত গোলাবাড়ী বন্দর সংলগ্ন প্রায় দুইশত বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে সম্পূর্ন ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলাটি বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলায় এসে ক্রয়-বিক্রয় করে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আতœীয় স্বজন এসে সমবেত হয়। ঈদ বা কোন উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আতœীয় স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দিতেই হবে, যা রেওয়াজে পরিনীত হয়েছে। মেলাটি একদিনের জন্য হলেও ওই এলাকায় মেলার আমেজ থাকে সপ্তাহ ব্যাপী। মেলা উপলক্ষে খরচার জন্য নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবার বছরের শুরু থেকে মাটির ব্যাংক অথবা অন্য কোথাও সুজুগ মতে অল্প অল্প করে টাকা-পয়সা জমা রেখে মেলার সময় বের করে। এই মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা, সুবোধ বাজার, দাড়াইল বাজারসহ আরো কয়েকটিস্থানে অবৈধভাবে মেলা বসানো হয়। মেলায় প্রসিদ্ধ হলো বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, কাঠ বা ষ্ঠীলের র্ফানিচার, বড়ই (কুল), কৃষি সামগ্রীসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের ন্যায় কেনা-বেচা করা হয়। এ ছাড়া বিনোদনমূলক সার্কাস, নৌকা, মাইক্রো-কার খেলা, যাদু, ও নাগোরদোলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি জন্মের পর থেকে মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেলার লাইসেন্স দেয়া হয়। বাংলার প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলাটি হয়ে থাকে। এর ধারা বাহিকতায় এবার ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার অর্থাৎ আগামী ১৫ফেব্রæয়ারী/২৩ ও ২ফাল্গুন/১৪২৯ মেলাটি বসবে। মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার মেলার জন্মের পর থেকে পরিচালনা করে আসছে। এ ব্যাপারে মন্ডল পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ও অনুমোদনের জন্য কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিকুঞ্জ কুমার পাল এবং সন্ন্যাসী পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় মহিষাবান ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শংকর কুমার রায় এর সাথে কথা বললে তারা জানান, শতশত বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা হয়ে আসছে। এর ধারা বাহিকতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ফেব্রæয়ারী/২৩ ও ২ফাল্গুন/১৪২৯ বুধবার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুজ্জামান-আল ইমরান জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে প্রশাসনের সার্বিকভাবে সহযোগিতা থাকবে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, আয়োজকরা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে মেলার অনুমতি পেলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পোড়াদহ মেলায় আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

জনপ্রিয়

বগুড়ায় প্রেস কাউন্সিলের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা আগামী ১৫ফেব্রুয়ারীঃ নানা আয়োজনের প্রস্তুতি

০২:৫৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৩

মুহাম্মাদ আবু মুসাঃ ঢাকঢোল পিটিয়ে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য আগামী ১৫ফেব্রæয়ারী/২৩ ও ২ফাল্গুন/১৪২৯ বুধবার পূর্ব বগুড়া তথা গাবতলীর ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে মেলা আয়োজকরা অত্যান্ত ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। স্বজনদের আপ্যায়ন করতে মেলার আশপাশের গ্রামের অনেক বাড়ীতে ধুম পড়ে গেছে নানা আয়োজনে। উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের অর্ন্তগত গোলাবাড়ী বন্দর সংলগ্ন প্রায় দুইশত বছর পূর্বে থেকে স্থানীয় সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে গাড়ীদহ নদী ঘেঁষে সম্পূর্ন ব্যক্তি মালিকানা জমিতে একদিনের জন্য মেলাটি বসে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মেলায় এসে ক্রয়-বিক্রয় করে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আতœীয় স্বজন এসে সমবেত হয়। ঈদ বা কোন উৎসবে জামাই-মেয়েসহ অন্যান্য আতœীয় স্বজনদের দাওয়াত না দিলেও তেমন কোন সমস্যা নেই। তবে মেলা উপলক্ষে দাওয়াত দিতেই হবে, যা রেওয়াজে পরিনীত হয়েছে। মেলাটি একদিনের জন্য হলেও ওই এলাকায় মেলার আমেজ থাকে সপ্তাহ ব্যাপী। মেলা উপলক্ষে খরচার জন্য নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবার বছরের শুরু থেকে মাটির ব্যাংক অথবা অন্য কোথাও সুজুগ মতে অল্প অল্প করে টাকা-পয়সা জমা রেখে মেলার সময় বের করে। এই মেলাকে ঘিরে উপজেলার দুর্গাহাটা, সুবোধ বাজার, দাড়াইল বাজারসহ আরো কয়েকটিস্থানে অবৈধভাবে মেলা বসানো হয়। মেলায় প্রসিদ্ধ হলো বড় বড় মাছ, হরেক রকম মিষ্টি, কাঠ বা ষ্ঠীলের র্ফানিচার, বড়ই (কুল), কৃষি সামগ্রীসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও খাদ্য দ্রব্য হাট-বাজারের ন্যায় কেনা-বেচা করা হয়। এ ছাড়া বিনোদনমূলক সার্কাস, নৌকা, মাইক্রো-কার খেলা, যাদু, ও নাগোরদোলার আয়োজন করা হয়। মেলাটি জন্মের পর থেকে মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মেলার লাইসেন্স দেয়া হয়। বাংলার প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার মেলাটি হয়ে থাকে। এর ধারা বাহিকতায় এবার ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার অর্থাৎ আগামী ১৫ফেব্রæয়ারী/২৩ ও ২ফাল্গুন/১৪২৯ মেলাটি বসবে। মহিষাবান গ্রামের মন্ডল পরিবার মেলার জন্মের পর থেকে পরিচালনা করে আসছে। এ ব্যাপারে মন্ডল পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় মহিষাবান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ মন্ডলের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ও অনুমোদনের জন্য কাজ চলছে।
এ ব্যাপারে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিকুঞ্জ কুমার পাল এবং সন্ন্যাসী পূজা উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় মহিষাবান ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শংকর কুমার রায় এর সাথে কথা বললে তারা জানান, শতশত বছর আগে থেকে সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা হয়ে আসছে। এর ধারা বাহিকতায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে মেলাটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৫ফেব্রæয়ারী/২৩ ও ২ফাল্গুন/১৪২৯ বুধবার।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আফতাবুজ্জামান-আল ইমরান জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ সন্ন্যাসী ও জামাই মেলা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে প্রশাসনের সার্বিকভাবে সহযোগিতা থাকবে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, আয়োজকরা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে মেলার অনুমতি পেলে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পোড়াদহ মেলায় আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে।